সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দেওয়া রায়টি ছিল রাষ্ট্রবিরোধী। দেশের রাজনৈতিক সংকটের সূচনা এখান থেকেই। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ফখরুল অভিযোগ করেন, খায়রুল হক বিচার বিভাগের আস্থার জায়গাকে ধ্বংস করেছেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায় দিয়ে আওয়ামী লীগকে একদলীয় শাসনের সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তেরোতম সংশোধনীর রায় শুধু গণতন্ত্র ধ্বংস করেনি, বরং দেশে সংঘাতের পথ উন্মুক্ত করেছে।”
খায়রুল হককে প্রধান বিচারপতি করার সময় সিনিয়র বিচারপতিদের উপেক্ষা করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে নানা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকাকালীন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থে ব্যক্তিগত চিকিৎসাও করেছিলেন তিনি, যা অনৈতিক।”
শিশু একাডেমি ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেও অবস্থান জানিয়ে ফখরুল বলেন, “ভবনটি শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশের কেন্দ্র। এটি ভাঙা অমানবিক কাজ হবে।”
উল্লেখ্য, আজ সকাল ৮টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
বিএনপির দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করে যেসব অপকর্ম করেছেন, তার উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন।