দীর্ঘ এক যুগ ধরে মৃত্যুর ছায়া মাথার উপর ঝুলে ছিল। সেই দুঃসহ সময় পার করে আজ হাজারো মানুষের ভালোবাসায় ঘেরা জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে জল এসেছিল এটিএম আজহারুল ইসলামের। এক সময় যে মানুষটি ফাঁসির মঞ্চে শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তিনি লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন—
“ফাঁসির মঞ্চ থেকে লক্ষ জনতার মঞ্চে হাজির হতে পেরেছি, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় মহাসমাবেশে তিনি এই আবেগঘন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এই সাবেক মন্ত্রী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন—
“আমি জানি, আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো মৃত্যু হয় না। আমি আজ আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি আল্লাহর রহমতে, আর এই ফিরে আসা কোনো সাধারণ বিষয় নয়।”
এটিএম আজহারুল বলেন, যুদ্ধাপরাধের নামে তাকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দেশের বিদ্যমান বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণের সচেতনতা তৈরি করতেই এই সমাবেশের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন তিনি।
সমাবেশের মঞ্চ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আমার জীবনের অভিজ্ঞতা বলে—শুধু ধৈর্য নয়, দৃঢ়তা ও ঐক্য থাকলে অন্যায় যত বড়ই হোক, তা একদিন পরাজিত হবেই।”
এ সময় তিনি কারাগারে দীর্ঘ ১২ বছর কাটানোর যন্ত্রণাময় দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার সন্তানদের মুখ দেখা হয়নি, স্ত্রীকে একা জীবন পার করতে হয়েছে, মায়ের মৃত্যুর সময় পাশে থাকতে পারিনি—এসব দুঃখ আমার ব্যক্তিগত, কিন্তু আমি জানি দেশের হাজারো মানুষ একই কষ্টে ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন,
“এই ফাঁসির আদেশ ছিল শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি আদর্শ, একটি ইসলামী আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু আজ এই জনস্রোত প্রমাণ করছে, সত্যকে দমিয়ে রাখা যায় না।”
বক্তব্যের শেষে এটিএম আজহারুল ইসলাম ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে ইসলামী আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বলেন—
“আমরা কেবল ক্ষমতা নয়, ইনসাফ চাই। আমরা কেবল রাজনীতি নয়, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র চাই।”