রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত মৌন মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন,
“আমরা আপনাদের সহযোগিতা করছি। দ্রুত নির্বাচন দিন, দেশে শান্তি ফিরবে। না দিলে আমরা ভাবব, দেশকে অশান্ত করার প্রক্রিয়া আপনারাই করছেন।”
শুক্রবার বিকেলে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, “বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে কেউ কেউ ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু বিএনপির একজন নেতাকর্মীও যদি বেঁচে থাকে, তা সম্ভব হবে না। আমরা রাস্তায় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত, জেল আমাদের অপরিচিত নয়। জীবন ও যৌবনের অর্ধেক সময় আমরা রাজপথে আর কারাগারে কাটিয়েছি।”
শহীদদের স্মরণ করে মির্জা আব্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“শহীদদের নিয়ে ব্যবসা হচ্ছে, তাদের রক্ত নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। তারা যদি বেঁচে থাকতেন, লজ্জা পেতেন। তারা বুক পেতে দিয়েছিলেন দেশের মানুষের মুক্তির জন্য, কোনো একক দলের পতাকার নিচে নয়। আজ সেই রক্তকে মুল্যহীন করে ফেলা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, কিছু দল শহীদদের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা পেতে চাইছে। আরেকটা দল আছে, যারা জুলাইকে ভিত্তি করে দল গড়তে চাইছে। আমরা তো রাজনীতি করে নিজেদের জন্য কিছু চাইনি, চাইও না। সংগ্রাম করেছি দেশের জন্য, শহীদের অপমান হতে দেব না।”
আওয়ামী লীগ-বিএনপি তুলনার কড়া জবাব দিয়ে তিনি বলেন,
“বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করার চেষ্টা হচ্ছে। এসব বাজে কথা বন্ধ করুন। জিহ্বায় লাগাম দিন। এই তুলনা দেশের মানুষের রক্তে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে।”
এদিকে একই দিনে মিরপুরে বিএনপির এক সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“পিআর পদ্ধতির নামে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায় এক মহল। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”
তিনি সতর্ক করে দেন,
“এই জুলাইয়ের মধ্যেই যদি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে এর দায় নিতে হবে ঐকমত্য কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে।”
এই সব বক্তব্যে বিএনপির বার্তা একটাই—গণঅভ্যুত্থান, শহীদদের রক্ত এবং রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এখন আর দমন করা যাবে না। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে—এটিই স্পষ্ট করে দিয়েছে শুক্রবারের রাজনৈতিক ময়দান।