‘মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এনসিপির লড়াই থামবে না’—এই ঘোষণা দিয়ে আবারও উত্তপ্ত করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার মুন্সীগঞ্জে এনসিপির পথসভায় তিনি বলেন,
“হামলা-মামলা দিয়ে এনসিপিকে দমন করা যাবে না। দেশ নির্মাণে সামনে আরও একটি বড় লড়াই আসছে, আমরা সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“গোপালগঞ্জে হামলা হয়েছে, আরও দশ জায়গায় হলেও কিছু হবে না। আমরা দমে যাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। ফ্যাসিবাদ ও মুজিববাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
এসময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন,
“জুলাই অভ্যুত্থানে যিনি গণহত্যা চালিয়েছেন, সেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দেখে মরতে চাই। গোপালগঞ্জের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“দেশ এখনো স্বাধীন হয়নি। যতদিন ফ্যাসিবাদ থাকবে, ততদিন প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে না। শুধু গোপালগঞ্জ নয়—যেখানে যেখানে এই ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী রয়েছে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
দেশের বাইরে বসে যারা হামলা ও হত্যার পরিকল্পনা করছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলে সারজিস বলেন, “হাসিনাকে দেশে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। আমরা তার বিচার ও মৃত্যুদণ্ড দেখে মরতে চাই।”
সভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,
“দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর মোকাবিলা করতে হবে। এই রাষ্ট্র নেতা নির্ভর নয়, নীতি নির্ভর হতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক ছাতার নিচে আসতে হবে।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, “আগামী ৩ আগস্ট জাতীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র আদায় করেই ছাড়ব।”
এই সভা ছিল স্পষ্ট বার্তা—এনসিপি এখন আপোষে নয়, যুদ্ধের মাঠে। তারা মুজিববাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রতিরোধের ডাক দিচ্ছে এবং সেই যুদ্ধকে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করছে।