গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ ঘিরে শহর পরিণত হয়েছে এক রক্তাক্ত রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পদযাত্রা শেষে ফেরার সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা। সহিংসতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পুরো এলাকা ঘিরে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে সেনাবাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, চারদিক থেকে সশস্ত্র হামলাকারীরা ঘিরে ধরে এনসিপির নেতাকর্মীদের, এমনকি পুলিশের গাড়িও অবরুদ্ধ করে ফেলে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী এক পর্যায়ে ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সেটি পর্যাপ্ত ছিল না। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বাধ্য হয়ে অন্য রাস্তায় গাড়ি ঘুরিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সরাসরি অভিযোগ করে বলেন,
“আমরা যখন রওনা দিয়েছি, তখন গ্রাম থেকে যত আওয়ামী লীগ-যুবলীগ, সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এখন একটি জায়গায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি। পুলিশ প্রশাসন, আর্মি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়।”
এর আগে দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশস্থলে প্রথম দফায় ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। হেলমেট পরে থাকা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মঞ্চে থাকা সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এই হামলার জন্য এনসিপির নেতাকর্মীরা সরাসরি ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন।
এছাড়া সকালে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ইউএনও’র গাড়িবহরেও হামলা হয়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। পরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন সড়কে এপিসি অবস্থান নেয়। সাতজনকে আটক করা হয়েছে, তবে এখনো তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত এই গোপালগঞ্জ কর্মসূচি স্পষ্ট করে দিয়েছে—বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে মাঠে নামতে দিলেই শাসকগোষ্ঠীর ভিত কেঁপে ওঠে। তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধে এখন চিহ্নিত ও পরিকল্পিত সহিংসতা চালানো হচ্ছে, প্রশাসনের নীরব সম্মতিতে।