রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসায়ী সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সারা দেশে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে। এই বর্বর হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করছেন রাজনৈতিক, সামাজিক বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ বার্তা দেন:
“ছাত্ররা ঘরে ফিরে যায়নি, জুলাই শেষ হয়নি।”
তিনি সরাসরি কোনো ঘটনার নাম না নিলেও—তার এই বার্তায় স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় মিটফোর্ডের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের দিকে। যেখানে ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে, কুপিয়ে এবং পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়। এই নির্মমতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরে নিন্দার ঝড় ওঠে।
মিটফোর্ড হত্যার নেপথ্যে চাঁদা দাবি এবং স্থানীয় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা দ্বন্দ্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ও কেবলের পুরোনো ব্যবসা নিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সোহাগের সঙ্গে বিরোধে জড়ায় মহিন ও টিটু নামের দুই ব্যক্তি। বারবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর সোহাগকে ‘সমঝোতার’ নামে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যার ফাঁদে ফেলা হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্ট যেন স্মরণ করিয়ে দেয়, ছাত্রদের আন্দোলন-প্রতিরোধ, প্রতিবাদের ইতিহাস এখনও শেষ হয়নি। “জুলাই শেষ হয়নি” বাক্যে ফুটে ওঠে এক অমোঘ সতর্কবার্তা—যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের জাগরণ, রক্তাক্ত ইতিহাস এবং বারবার ফিরে আসা প্রতিরোধের চেতনা স্পষ্ট হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মুখে ঘুরছে একটাই কথা: “বাংলাদেশে এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না।” অন্যায়, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নতুন করে শক্ত প্রতিবাদ গড়ে তোলার ডাকও উঠে আসছে সর্বত্র।