সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশে এনসিপি ও জামায়াত-শিবির মব তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত ছাত্রদল নেত্রী তাহসিন আক্তার মুন। রোববার (০১ জুন) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের উপস্থিতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ওই ছাত্রদল নেত্রী বলেন, যে দুই শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়া নিয়ে আমার বিরুদ্ধে নিউজ হয়েছে, সেই দুজনের একজন ছাত্রলীগের পদধারী নেত্রী। আরেকজন ছাত্রলীগের কর্মী। তিনি বলেন, আমাদের এই হলের পূর্ব নাম ছিল বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল।
এই হলে দুই ধরনের রুম আছে। কিছু রুম ভিআইপি কেবিনের মতো। সেগুলোতে একজন করে থাকে। ভিআইপি রুমগুলো শুধু ছাত্রলীগ দেওয়া হতো। আর বাকিগুলো ওয়ার্ডের মতো, যেগুলোতে আমরা আম-জনতা থাকি। এখনো হলে ছাত্রলীগের ওই পদধারীরা ভিআইপি রুমগুলোতে বহাল তবিয়তে আছে।
এনসিপি ও জামায়াত শিবির মব সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতকাল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এনসিপি একটি কর্মসূচি পালন করে প্রভোস্টের পদত্যাগ চেয়েছে। কারণ প্রভোস্ট ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, আমার ফ্যামিলি নন পলিটিক্যাল। আমি জুলাই আন্দোলনে সমন্বয়ক ছিলাম। এনসিপির নেতা হান্নান মাসউদ ও রিফাত রশিদের সঙ্গে সমন্বয় করে যুদ্ধ করেছি।
এ সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষার্থীকে জোর করে মিছিলে নেওয়ার যে ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা চরমভাবে মিথ্যা ও প্রপাগাণ্ডা।
রাবেয়া জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তাকে জড়িয়ে দেশের দু-একটি সংবাদমাধ্যম একটি নিউজ করেছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ, শিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির কিছু লোকের উস্কানিতে রাবেয়ার ব্যক্তিগত নম্বর ও ছবি ছড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এই ঘটনার দ্বারা প্রমাণ হয়, সারা দেশে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে যে প্রপাগাণ্ডা হচ্ছে, অথবা ছাত্রদলের বিপক্ষে যে মব তৈরি করছে বিভিন্ন গুপ্ত সংগঠন এবং যারা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে; তারা এভাবে মব তৈরি করে কিংবা প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে ছাত্রদলকে এক ধরনের বেকায়দায় ফেলতে চায়।
এ সময় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, যে দুজনকে কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারা ছাত্রলীগের পোস্টধারী নেত্রী। তাদেরকে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা তো আর অপরাপর সংগঠন না যে ছাত্রলীগের পদধারী কাউকে অ্যালাউ করব।
তিনি বলেন, আমরা দেশের ১৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি করেছি। সেখানে যদি সামান্য পরিমাণেও বিচ্যুতি ঘটে থাকে আমরা কিন্তু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।