রাজনৈতিক দল হিসেবে দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। রোববার (১ জুন) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের একটি আলোচিত মোড় স্পষ্ট হয়ে উঠল। যদিও দলটির প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি আদালত—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, যাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট এক রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। এর ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর পরপরই জামায়াত আপিল করলেও ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের মূল আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিলটি খারিজ করে দেন।
তবে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় জামায়াতের আইনি প্রচেষ্টা। ২০২3 সালের ২২ অক্টোবর ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ হিসেবে খারিজ হওয়া মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে জামায়াত। এই আবেদনের শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সে আবেদন গ্রহণ করে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনরুদ্ধারে সবুজ সংকেত দেয়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দেশের বহুদলীয় রাজনীতির কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এই রায়ের ফলে এক যুগ পর জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি ফিরে পাওয়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। যদিও প্রতীক ফিরে পাওয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এই আদেশ দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজনীতির মাঠে এই রায়কে কেউ দেখছেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিপূর্ণতা, কেউ বা পুরনো বিতর্কিত অধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন হিসেবে। তবে একথা নিশ্চিত—এখন থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য আবার নতুন করে গঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে নিষিদ্ধ হয়ে পড়া একটি দল ফিরছে আবারও ব্যবস্থাগত স্বীকৃতির মধ্যে।