জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে পঞ্চগড়ে নিজের এলাকায় যাওয়া ঘিরে যেসব প্রশ্ন ওঠেছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন তার দলের নেতা ডা. তাসনিম জারা।
তাসনিম জারার পোস্টের জবাবে সারজিস আলম ফেসবুকে পোস্ট করে জানান, গাড়ির ভাড়া দিতে যা খরচ হয়েছে, তা দেওয়ার সামর্থ্য আমার পরিবারের আরও ৫০ বছর আগেও ছিল। আমার দাদা আমার জন্য যা রেখে গেছেন, তা দিয়ে আমি আমার নির্বাচনও করে ফেলতে পারবো।
ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। পোস্টটি তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারাকে উদ্দেশ করে লেখেন। যেখানে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শোডাউনের বিষয়ে তাসনিম জারার প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেন সারজিস।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরাসরি নতুন বন্দোবস্ত প্রয়োগে দীর্ঘ মেয়াদে অপ্রাসঙ্গিক হওয়ার চেয়ে সাময়িকভাবে নতুন-পুরনো মিশেলে এগিয়ে যাওয়াটা যৌক্তিক বলে মনে করেন সারজিস আলম। তিনি মনে করেন, নতুন বন্দোবস্তের জন্য সময়ের প্রয়োজন।
ফেসবুক পোস্টে সারজিস লেখেন, আমরা নতুন বন্দোবস্ত চাই। কিন্তু সেটা কখনও ছয় মাসের ব্যবধানে ১৮০ ডিগ্রি উল্টে যাবে না বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ১০, ২০, ৩০ শতাংশ এভাবে পরিবর্তিত হবে। এক সময় হয়তো শতভাগ নতুন বন্দোবস্ত দেখতে পাবো।
নতুন রাজনৈতিক চিন্তা এবং এর বাস্তবায়নের পথে অনেক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ফেসবুকের রাজনীতি আর মাঠের রাজনীতি এক নয়। আপনার প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করার জনবল এবং সামর্থ্য আপনার যদি না থাকে কিংবা আপনি দেখাতে না পারেন, তাহলে মাঠের রাজনীতিতে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। অন্য নেতা তো দূরের কথা সাধারণ জনগণও আপনাকে গোনায় ধরবে না।
কারণ মানুষ স্বভাবতই ক্ষমতামুখী। আমাদের যেমন নতুন বন্দোবস্তের দিকে যেতে হবে, তেমনি মাঠের রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য আগেই যেই বন্দোবস্তগুলো চাইলেই এখনই ছুঁড়ে ফেলা সম্ভব নয়, সেগুলোকে পাশে রেখে আপাতত চলতে হবে। যেদিন সেগুলোও ছুঁড়ে ফেলার সুযোগ আসবে, সেদিন সেগুলোর ছুঁড়ে ফেলতে হবে।
তিনি লেখেন, সরাসরি নতুন বন্দোবস্ত এপ্লাই করে দীর্ঘ মেয়াদে অপ্রাসঙ্গিক হওয়ার চেয়ে সাময়িকভাবে নতুন-পুরনো মিশেলে এগিয়ে গিয়ে যদি আপনি একটি অথরিটি পান কিংবা নির্বাচিত হতে পারেন, তখন বরং দীর্ঘমেয়াদে নতুন বন্দোবস্তের কালচার চালু করা এবং সেগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার সুযোগ বেশি থাকবে। আমি এটাকে মন্দের ভালো মনে করি।
গাড়ি বহরের বিষয়ে স্পষ্ট করে তরুণ এই রাজনীতিবিদ লেখেন, আমার এলাকায় ফেরার সময় এত গাড়ি, এত মানুষ; তাদের আকাঙ্ক্ষা এবং ভালোবাসা নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করবে এবং আমাকে সঙ্গ দেবে, এটা আমিও কল্পনা করিনি।
আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং জেলার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্ধেকের বেশি গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। যেগুলোর ব্যয় আমাদের বহন করতে হয়নি। বাকি প্রায় ৫০টার মতো গাড়ির ৬ হাজার করে যে তিন লাখ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে, সে টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার পরিবারের আরও ৫০ বছর আগেও ছিল।
এবং আমি বিশ্বাস করি, অন্য কেউ না; শুধু আমার দাদা আমার জন্য যতটুকু রেখে গিয়েছেন, সেটা দিয়ে আমি আমার নির্বাচনও করে ফেলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

‘ছাত্র-জনতা হত্যার সম্পূর্ণ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রাজনীতি করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত’ আপনি কি সমর্থন করেন?