বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত হতে হবে এবং দলীয় ভেদাভেদ ভুলে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত বর্ধিত সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ সাত বছর পর আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা দলকে আরও শক্তিশালী করে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকে।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ থাকলে, নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থের কাছে বৃহত্তর স্বার্থকে বিসর্জন দিলে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব হবে না। দেশকে রক্ষার জন্য আমাদের সব ধরনের সংকীর্ণতা ভুলে গিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এই মুহূর্তে দেশ গভীর সংকটে আছে, মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে, স্বৈরাচারের শাসন চলছে। তাই আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে।’’
খালেদা জিয়া দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিএনপিকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে দল যেসব সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে। বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের প্রতীক। তাই আমাদের লড়াই হতে হবে জনগণের পক্ষে, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য।’’
বর্ধিত সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াও জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় সাড়ে তিন হাজার নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং দলীয় নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে কর্মপরিকল্পনা শোনার সুযোগ পান তৃণমূলের নেতারা।
সভার শেষদিকে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘আমরা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না।’’ তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, ‘‘বিএনপির সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কোনো বিভেদ রাখা যাবে না। ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাবো।’’
বিএনপির এই বর্ধিত সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই সভার মাধ্যমে বিএনপি তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচিগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে এবং কীভাবে তারা নিজেদের আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করে এগিয়ে নেয়।