বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেছেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়; বরং তথাকথিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং নির্বাচন’-এ ভূমিকা রাখার পুরস্কার হিসেবেই দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তড়িঘড়ি করে দলীয় প্রশাসক বসিয়ে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হলেও তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সরকারের প্রকৃত নির্বাচনী সদিচ্ছা থাকলে আগের প্রশাসকদের অপসারণ করে পুনরায় দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হতো না। তার মতে, এতে স্পষ্ট হয় যে নির্বাচন নয়, বরং দলীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
ড. মাসুদ আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান দিলেও নির্বাচনের পর তাদের কর্মকাণ্ডে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। “সবার আগে বাংলাদেশ—সবাই মিলে বাংলাদেশ” স্লোগান বাস্তবায়িত হলে কোনো সরকারকে পালিয়ে যেতে হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যথায় জনরোষের মুখে আবারও সরকারকে দেশত্যাগ করতে হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সরকারের পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ড. মাসুদ বলেন, কোনটি চাঁদা আর কোনটি চাঁদাবাজি—এটি বুঝতে কারও সমস্যা থাকলেও জনগণ বিষয়টি স্পষ্টভাবে অনুধাবন করে। তিনি চাঁদাবাজদের রক্ষা না করে আইনের আওতায় এনে দেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করার আহ্বান জানান। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা গেলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে; অন্যথায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত থানা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সংগঠনের সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, ওমর ফারুক, জুবায়ের আল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চঞ্চল, কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।