প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কাছে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার আগে সরকারপ্রধানের উচিত নিজের মন্ত্রিসভা ও দলের ঋণগ্রস্ত সংসদ সদস্যদের বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেওয়া।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা বহন করছেন, তারা কবে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন—দেশবাসী তা জানতে চায়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা দেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। বরং পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতাই এতে স্পষ্ট হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি; ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী রাখা হয়নি। এতে প্রতিনিধিত্ব ও অন্তর্ভুক্তির ঘাটতি রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু তরুণ মুখ অন্তর্ভুক্ত হলেও মন্ত্রিসভার গড় বয়স প্রায় ৬০ বছর, যা তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী। ব্যবসা করা অপরাধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ব্যবসায়ী নির্ভরতা নীতিনির্ধারণে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে।
এছাড়া তিনি জানান, বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-কে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যা প্রশাসনের প্রশ্রয়ে হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।