স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে মব জাস্টিসের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বুধবার সচিবালয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য দেশকে গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেছেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই মন্ত্রিসভা কাজ করবে। মানুষের সমস্যার সমাধান ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়াই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।
গণতন্ত্রকে সরকারের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সব কার্যক্রমে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাজ সরাসরি তৃণমূল মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে এই খাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। মন্ত্রণালয়কে গতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে জনগণের সমস্যার সমাধানে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে— এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এতটা নাজুক নয় যতটা ধারণা করা হচ্ছে। তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও অনেকটা ফিরে এসেছে। ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উন্নত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
গত দেড় বছরে মব জাস্টিসের ঘটনা বেড়েছে— এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। একটি বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণঅভ্যুত্থানের পরপরই সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে— এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে— এটিও একটি বড় অর্জন।
আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল এটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরবর্তীতে রাজনৈতিকভাবে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না— এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সে প্রয়োজন নেই। তার মতে, বিশেষ একটি সময়ের দায়িত্ব তারা পালন করেছে এবং গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সেই কৃতিত্ব তাদের দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।