ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সুতরাং এই নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে এবং তা ১২ তারিখেই হতে হবে। যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তাদের আমাদের রুখে দিতে হবে।”
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, যারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করতে চায়, তারা পরিকল্পিতভাবেই ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “এই নীলনকশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে।”
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। তাই জুলাই গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের ভোট দিয়ে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে জাবের বলেন, তিনি নিজে এবং তার আশপাশের একাধিক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মাথা লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে তার মুখে সেলাই দিতে হয়েছে এবং হাতে ব্যান্ডেজ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ডাকসুর নেত্রী জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা এবং অন্যান্য কর্মীদের ওপরও মারধর ও নির্যাতন চালানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের যেসব নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে আটকা পড়েছিলেন, তাদের ওপর শত শত পুলিশ সদস্য নির্বিচারে হামলা চালায়। এতে ফাহিমসহ কয়েকজনের হাত ভেঙে যায় এবং এক কর্মী গুরুতর আহত অবস্থায় অক্সিজেন দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যিনি বর্তমানে মানসিক আঘাতেও ভুগছেন বলে তিনি দাবি করেন।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “এই হামলা ছিল আমাদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে। আমরা ইতোমধ্যে এক ভাইকে হারিয়েছি। এরপরও যদি আরও প্রাণহানি ঘটে, তবুও নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না।” তিনি বলেন, নির্বাচনের পর যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ কঠোর আন্দোলনে যাবে।