যুক্তরাষ্ট্র ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব দেশের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারেন—এই আশঙ্কার ভিত্তিতেই ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার জানুয়ারি ১৪ তারিখে ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ফক্স নিউজের হাতে পাওয়া পররাষ্ট্র দপ্তরের এক অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, ভিসা যাচাই ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা দেওয়া হবে না। কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় ভিসা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় সোমালিয়া, রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইয়েমেনসহ বহু দেশ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনেসোটাকেন্দ্রিক একটি বড় জালিয়াতি কেলেঙ্কারির পর সোমালিয়া বিশেষ নজরদারিতে এসেছে। সেখানে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন সুবিধা কর্মসূচিতে ব্যাপক অপব্যবহার উদঘাটিত হয়, যার সঙ্গে সোমালি নাগরিক বা সোমালি আমেরিকানদের বড় একটি অংশ জড়িত বলে অভিযোগ উঠে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে পাঠানো এক স্টেট ডিপার্টমেন্ট নির্দেশনায় পাবলিক চার্জ বিধানের আওতায় কঠোর স্ক্রিনিং চালুর কথা বলা হয়। এতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারেন কিনা—তা নির্ধারণে স্বাস্থ্য, বয়স, ইংরেজি দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বয়স্ক বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারী, অতীতে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণকারী কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে থাকার ইতিহাস রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ভিসা নাকচ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসে পাবলিক চার্জে পরিণত হতে পারেন এবং আমেরিকান জনগণের উদারতার অপব্যবহার করতে পারেন—এমন অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণার ক্ষমতা বিভাগটি প্রয়োগ করবে।
তিনি আরও বলেন, এই ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে কল্যাণভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে ভিসা ব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনা করা যায়। দীর্ঘদিন ধরেই পাবলিক চার্জ বিধান থাকলেও এর প্রয়োগ প্রশাসনভেদে ভিন্ন ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যতিক্রম খুবই সীমিত থাকবে এবং কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন আবেদনকারী পাবলিক চার্জ সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করতে পারবেন।
ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৭৫টি দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইরান, ইরাক, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, ইয়েমেনসহ আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ।