ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের হত্যার হুমকির ঘটনায় চারজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। বাকি তিনজনকে ধরতে অভিযান চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৬ নভেম্বর রাতে, রায় ঘোষণার মাত্র একদিন আগে। ওই রাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক ও প্রসিকিউটরদের ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে অপরিচিত ব্যক্তিরা ফোন দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। পুলিশ বলছে, কলগুলোর উৎস ও আইডেন্টিটি ট্র্যাক করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “রায়ের আগের দিন অসংখ্য ফোন পেয়েছি। একই ভাষা, একই বক্তব্য—নেত্রীর সাজা হলে আমাদের জীবন শেষ করে দেবে। পরে বাধ্য হয়ে ফোন বন্ধ করে দিই।” তিনি আরও বলেন, “ভীরু ও গণহত্যাকারীদের ভাষা এমনই হয়। এগুলোকে আমলে নেওয়ার কিছু নেই। বিচার তো চলবেই।”
প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ জানান, “রোববার সন্ধ্যা থেকেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে হুমকি আসতে থাকে। বেশিরভাগ কল ভারতের কান্ট্রি কোড থেকে করা হয়েছে। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—শেখ হাসিনার শাস্তি হলে আমাদের কেউ বাঁচবে না।” পরিস্থিতি বিচার করে তারা দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত সোমবার শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। একই মামলায় সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে কোনো সাবেক সরকারপ্রধানকে এভাবে সাজা দেওয়ার এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম নজির।
রায়ের পর থেকেই ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুমকিতে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে। তারা বলেন, “এ ধরনের হুমকি বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”