বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

এবার বেরিয়ে এলো সিএমএম রেজাউল করিমের থলের বিড়াল

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের মতো জড়িত ছিলেন বিচারপতিরাও। এবার দুর্নীতির অভিযোগে বহুল আলোচিত ঢাকার সেই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়, যা সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গৃহীত হয়। সোমবার আইন অঙ্গনে এ […]

এবার বেরিয়ে এলো সিএমএম রেজাউল করিমের থলের বিড়াল

এবার বেরিয়ে এলো সিএমএম রেজাউল করিমের থলের বিড়াল

নিউজ ডেস্ক

১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০১

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের মতো জড়িত ছিলেন বিচারপতিরাও। এবার দুর্নীতির অভিযোগে বহুল আলোচিত ঢাকার সেই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়, যা সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গৃহীত হয়।

সোমবার আইন অঙ্গনে এ খবর চাউর হওয়ার পর সবার মধ্যে একধরনের স্বস্তি নেমে আসে। বিশেষ করে তার দ্বারা যারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে বিচার ও আইনসংশ্লিষ্ট কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জানান, আওয়ামী আমলে ঢাকার সিএমএম থাকাবস্থায় রেজাউল করিমের ন্যক্কারজনক দলবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। তিনি যেখানেই কর্মরত ছিলেন, সেখানেই আইন ও বিচার অঙ্গনের অনেকেই তার দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এই দুর্নীতিবাজ বিচারকের কারণে জুডিশিয়াল ক্যাডারের সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। বলতে গেলে তিনি বিচারক হয়েও পদে পদে অবিচার করেছেন। নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছের লোক পরিচয় দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আদালতকে বানিয়েছিলেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। তার কথামতো কাজ না করলেই রোষানলে পড়তে হতো অধীনস্থ বিচারকদের।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম জুডিশিয়াল সার্ভিসের শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যুক্তিযুক্ত মর্মে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম জুডিশিয়াল সার্ভিসের শৃঙ্খলা বিধিমালা-২০১৭-এর বিধি ১১ অনুযায়ী রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’ ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর তাকে কুমিল্লায় নারী ও শিশু আদালতে বদলি এবং পরবর্তী সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন
পুলিশের আরেক বর্বরতার শিকার কলেজছাত্র হৃদয়
পুলিশের আরেক বর্বরতার শিকার কলেজছাত্র হৃদয়
এর আগে ঘুস গ্রহণ, জামিন বাণিজ্য, মামলায় প্রভাব খাটিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বহুবিধ অপরাধের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদে গঠিত মন্ত্রিসভায় আনিসুল হক আইনমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বিচার বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাত্রা বাড়তে থাকে। ওই সময় থেকেই মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাসহ অধস্তন আদালতের একাধিক বিচারক মন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে পড়েন। এরপর আস্থাভাজনসংশ্লিষ্ট বিচারকরা নানা ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

এছাড়া ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এক মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে এলে তাকে বেআইনিভাবে ‘অভ্যর্থনা’ জানান রেজাউল করিমসহ কয়েকজন বিচারক। তারা খাসকামরা থেকে বের হয়ে জয়কে গাড়ি থেকে নামিয়ে আদালত কক্ষে নিয়ে যান এবং সাক্ষ্য শেষে তাকে আবার গাড়িতে তুলে দেন। বিষয়টি নিয়ে ওই সময় আদালতপাড়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সাক্ষী যত বড় ভিআইপি হোক না কেন, কোনো বিচারক এভাবে প্রটোকল দিতে পারেন না। মূলত ওইসময় ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে দলীয় ক্যাডারের মতো তারা এমনটি করেছিলেন। এমন অভিমত প্রকাশ করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল করিম চৌধুরী আওয়ামী লীগ আমলে ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে আদালতকে বানিয়েছিলেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘর। আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট এই বিচারক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে বিরোধী দল দমনে ছিলেন অতি-উৎসাহী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মৃত ব্যক্তিকে সাজা প্রদান, নির্বাচনের আগে ১৬১টি রাজনৈতিক মামলায় শুধু পুলিশের সাক্ষ্য নিয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়া হয়। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি ও জামিন প্রদান, ডিজিএফআই-এর ভয় দেখিয়ে অধীনস্থ বিচারকদের জামিন দিতে বাধ্য করা হতো। তার কথামতো কাজ না করলে নেমে আসত নানা ধরনের হয়রানি। অনেককে শাস্তিমূলক বদলি করার ভয়ও দেখাতেন। এমনকি অকথ্য ভাষায় গালগালও করতেন। আবার কাউকে শায়েস্তা করতে মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগপত্র পাঠিয়ে সেটি নথিতে পুটআপ করাতেন। এসব কারণে অনেক সৎ, যোগ্য ও দক্ষ বিচারকরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না। হয়রানি এড়াতে এবং চাকরি রক্ষার স্বার্থে তারা অনেকটা বিবেকের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে বাধ্য হতেন। সূত্র জানায়, বহুল আলোচিত এই বিচারক এতটাই অর্থলোভী ছিলেন যে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে আদালতের নিলাম সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি তার সুবিধামতো গোপনে নিলাম ডেকে ফায়দা নিতেন। ওই সময় এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সিএমএম কোর্টের অফিস স্টাফরাও ভয়ে কিছু বলতে পারতেন না। সূত্র মনে করে, দুদুক এ সংক্রান্ত নথিপত্র অনুসন্ধান করলে পদে পদে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে।

এছাড়াও বিচারক রেজাউল করিম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিবির হেফাজতে থাকা মামলার আলামত হিসাবে জব্দকৃত একটি ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি ও অন্য একটি যানবাহন অবৈধভাবে নিজের হেফাজতে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি হাইকোর্টের আদেশও অমান্য করেন। অপরদিকে দলীয় পৃষ্ঠপোষক বিচারক হিসাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বাচলে সাত কাঠার প্লট পেতে সক্ষম হন। তার সর্বোচ্চ ৫ কাঠা পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি ৭ কাঠা প্লট অনায়াসে পেয়ে যান। তার লোভের এখানেই শেষ নয়। এই বিচারক একটি আবাসন ব্যবসায়ী গ্রুপের মামলায় বিশেষ সুবিধা দিয়ে এর বিনিময়ে রাজধানীতে পাঁচ কাঠার মূল্যবান প্লট নিজের নামে বরাদ্দ নেন।

এদিকে তিনি নিজ জেলা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে শহরে জাকির হোসেন রোডের ইয়াকুব সেন্টারে বড় পরিসরের ফ্ল্যাট কিনেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এসব অভিযোগ দুদক তদন্ত করছে। তারা দেখবে আমার কোনো দোষ আছে কি-না। দুর্নীতির বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল সেখানে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। যা মীমাংসিত তা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রটোকল দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি যেদিন আদালতে আসেন সেদিন এসএসএফ পুরো আদালত কন্ট্রোলে নিয়ে ফেলে। তখন আমি তাদের বলি যেন সবকিছু সফটলি করে। বিচার কাজে যেন বিঘ্ন না ঘটে। এ সময় আমি আমার করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন তিনি (জয়) আসেন। তখন তো আমি না গিয়ে পারি না। এ সময়ের জয় আর সে সময়ের জয় তো এক ছিল না।

সূত্র: যুগান্তর

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।