ভারত থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ছয় মাস পর দলটি নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। জনমতের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার। এবার দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে দলটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রাপ্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন দাখিল করবে ট্রাইব্যুনালে। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, “আইনে স্পষ্ট বলা আছে—অপরাধ প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল সংগঠন নিষিদ্ধ করতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগ দলীয় সিদ্ধান্তে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।” তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা নিজেই বিভিন্ন নেতাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে মাঠে নামাতে, যা প্রমাণিত দলীয় নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের গেজেট প্রকাশিত হয় গত ১০ মে। সংশোধিত আইনের ২০বি ধারায় বলা হয়, কোনো সংগঠন যদি হত্যা, ধর্ষণ, গুম, অগ্নিসংযোগ বা গণহত্যার মতো অপরাধ সংঘটন বা উসকানি দেয়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল তার নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তসহ দলটিকে নিষিদ্ধ করতে পারবে।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়ায় দলটির বিচার হবে।” তিনি আরও জানান, সাক্ষীরা ইতোমধ্যে জবানবন্দিতে দলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।
অন্যদিকে, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, “যে কোনো দল মানবতাবিরোধী অপরাধ করলে তার বিচার হওয়া উচিত। আওয়ামী লীগ যা করেছে, তার জবাব দিতে হবে আদালতে। এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি।”
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান দলও আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে গুলি, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এসব অপরাধ সরাসরি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, তদন্তে দলীয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে আওয়ামী লীগকে আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হবে, যা হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়।