রিজার্ভ কেলেঙ্কারির নয় বছর পর অবশেষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া জাগানো এ অর্থ পাচারের মামলায় বাংলাদেশ কিছুটা হলেও সাফল্য দেখতে পেল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক আদালতের রায়ে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংক (আরসিবিসি) থেকে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্তের ঘোষণা এসেছে। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিশ্চিত করেছে যে আদালতের আদেশে এই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়। এই বার্তার মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় একটি ভুয়া এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও বানান ভুলে সন্দেহ জাগায়, শেষ মুহূর্তে তা আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপিন্সের মাকাতির আরসিবিসির জুপিটার শাখায় খোলা চারটি জাল অ্যাকাউন্টে।
সেই অর্থ খুব দ্রুত ফিলিপিন্সে ফিলরেম নামের একটি মানি রেমিটেন্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়ে পেসোতে গিয়ে তিনটি ক্যাসিনোর টেবিলে ঢোকে। সেখানেই জুয়ার আড়ালে অর্থ হাতবদল হতে থাকে। বাংলাদেশ সরকার ক্যাসিনোর এক মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করলেও বাকিটা দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পরও ফেরত পাওয়া যাচ্ছিল না।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০ সালের ২৭ মে নিউইয়র্কে ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, পাচার, জালিয়াতি, এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। এ মামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়, কারণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ সরাসরি ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পাচার হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলায় আংশিক অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি হলেও পুরো টাকা ফেরত পেতে এখনো কঠিন লড়াই বাকি আছে। বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতে এই চুরিকে অন্যতম ভয়াবহ সাইবার ক্রাইম হিসেবে ধরা হয় এবং আজও তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে চলছে।