গুলশানে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুর একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই ভিডিওকে ‘জোরপূর্বক আদায় করা’ বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী কাজী আনিশা, যিনি বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অপুর স্ত্রী জানান, অপুকে ইশরাকের বাসার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর গোপীবাগে, যা ইশরাকের বাসা হিসেবে পরিচিত, সেখানে জোরপূর্বক স্টেটমেন্ট করানো হয়। তার ভাষায়,
“সে (ইশরাক) অপুকে দিয়ে জোরপূর্বক এ কাজ করিয়েছে। অপুকে সাহায্য করার নামে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। তারা উপদেষ্টা আসিফ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদের নাম জানতে চেয়েছিল।”
তিনি অভিযোগ করেন, ভিডিওটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে এবং স্টেটমেন্ট নেয়ার ১৪ দিন পর সামাজিকমাধ্যমে ছাড়ার পেছনে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তার দাবি, চার দিনের রিমান্ডে রেখে অপুকে দিয়ে এনসিপি নেতৃত্বের নাম বলানোর চেষ্টা করা হয়, যা আসলে এনসিপিকে দমন করার একটি কৌশল।
প্রসঙ্গত, জানে আলম অপু দীর্ঘদিন বাগছাসের সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বিগত কয়েক মাস ধরে এনসিপি ঘনিষ্ঠ যুব কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত অপরাধের মামলা নয়, বরং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বিরোধী রাজনীতিকে দমন করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। বিশেষত, এনসিপির সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ভূমিকার কারণে সরকারপন্থী ও বিরোধী উভয় শিবির থেকেই চাপে পড়েছে দলটি।
ঘটনার পর থেকে ইশরাক হোসেনের নীরবতা এবং বিএনপির আনুষ্ঠানিক অবস্থানহীনতা রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি করেছে। একাধিক রাজনৈতিক সূত্র মনে করছে, এ ধরনের বিতর্ক শুধু অপুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকেই সংকটে ফেলছে না, বরং বিরোধী শিবিরের মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভক্তি আরও গভীর করতে পারে।