জাতীয় সংসদ নির্বাচন না স্থানীয় সরকার নির্বাচন—কোনটি আগে হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত মতের ওপর। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে সরকার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। আমরা চাচ্ছি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া হোক। দলগুলো একমত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, “এখন থেকে আর রাজনৈতিক দলের প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না। এ সংক্রান্ত চারটি আইনের সংশোধনী বৃহস্পতিবারের উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।”
এর আগে দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টেও একই তথ্য জানান তিনি। পোস্টে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত সংশোধনীতে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে স্থানীয় নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের স্থানীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় প্রভাব হ্রাস পাবে এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা বাড়বে।
এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও অনেক দল চাইছে—সংসদ নির্বাচন আগে হোক, এরপর স্থানীয়। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছুদিন আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।