যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব আর সরকারের ‘দোসর’ হয়ে কাজ করার অভিযোগ বহুদিনের, অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতেই রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে ১৮ জন অধস্তন বিচারককে সরাসরি অবসরে পাঠানো হয়। সরকারের ভাষায় ‘জনস্বার্থে’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম বিকাশ কুমার সাহা। বহুবার বিতর্কিত রায় দিয়ে যিনি ক্ষমতাসীনদের সুবিধা করে দিয়েছেন বলে সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। সাধারণ মানুষ, আইনজীবী মহল—সবাই একাধিকবার তার পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। এবার তাকেও ছাড় দেওয়া হলো না। তার সঙ্গে আরও ১৭ জন বিচারক—যারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্বে ছিলেন, তাদের একযোগে অবসরে পাঠিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল সরকার।
এই বিচারকদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, খুলনা, ভোলা, টাঙ্গাইল, সিলেট, দিনাজপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, সাইবার ট্রাইব্যুনাল, জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ আদালতের বিচারকরা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তারা সবাই ২৫ বছর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করেছেন—তাই অবসর। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা আসলে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। যাদের বিরুদ্ধে সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট করার অভিযোগ ছিল, তাদের সবার জায়গা এবার এক জায়গায়—“অবসর”।
এই ঘটনায় আইনজীবী ও বিচার বিভাগের সচেতন অংশে স্বস্তি দেখা গেছে। আবার নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই বিচারকদের বিরুদ্ধে এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? আর যারা এখনো থেকে গেছেন, তাদের কী হবে?
সরকার হয়তো এবার সত্যিই শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে—কিন্তু জনগণ চাইছে, এটা যেন লোকদেখানো পদক্ষেপ না হয়। বিচার বিভাগে সত্যিকারের স্বাধীনতা ফেরাতে এই ধরনের সাহসী সিদ্ধান্ত আরও লাগবে—এমনটাই বলছে সচেতন মহল।