রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

শিক্ষার্থীরা দেশের ভেতরেই ভবিষ্যত দেখতে পাবে: শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার

অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেছেন, তিনি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশের ভেতরেই তাদের ভবিষ্যৎ দেখতে পারবে এবং বাংলাদেশ থেকেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। তিনি স্বীকার করেন যে, এই পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়—একদিনে, এক বছরে, এমনকি পাঁচ বছরেও নয়। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে ভিত্তি গড়ে তুলতে […]

শিক্ষার্থীরা দেশের ভেতরেই ভবিষ্যত দেখতে পাবে: শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার

ছবি: সংগৃহিত

নিউজ ডেস্ক

০৬ মার্চ ২০২৫, ০০:৪২

অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেছেন, তিনি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশের ভেতরেই তাদের ভবিষ্যৎ দেখতে পারবে এবং বাংলাদেশ থেকেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। তিনি স্বীকার করেন যে, এই পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়—একদিনে, এক বছরে, এমনকি পাঁচ বছরেও নয়। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আমরা কখনো ভাবিনি যে, আমাদের জীবদ্দশায় এভাবে মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ পাব। প্রধান উপদেষ্টা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, এটি নিঃসন্দেহে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি নিজেও বলেছেন, সামনের পথ সহজ হবে না, বরং কঠিন হবে। তবে এটি মোকাবিলা করতেই আমি এসেছি।”

শিক্ষাখাতকে একটি বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সবাই জনগণের টাকায় বড় হয়েছি। ফলে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে জনগণের প্রতি। শিক্ষা এমন একটি ক্ষেত্র, যা শুধু চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের মূল চালিকাশক্তি।”

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গে সি আর আবরার বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি যে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এসে দায়িত্ব পালন করব। তবে আমি মনে করি, শিক্ষা হলো এমন একটি মাধ্যম, যা ব্যক্তির কর্মদক্ষতা অর্জন, আত্মোন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরির অন্যতম উপায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এমন হতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যা দেবে না, বরং তাদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করবে। আমরা চাই, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিলেও দেশে ফিরে এসে কাজ করবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এজন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং গবেষণা কার্যক্রমে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।”

নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা স্বীকার করেন, শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান চিত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাঠ্যক্রমে আধুনিকীকরণ, দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার, বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “আমরা চাই, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হোক, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশের মধ্যেই সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা পাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ইতোমধ্যে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের উপযোগী শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হলে শুধু নীতিমালা নয়, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য সরকার, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে এমন, যা ছাত্রদের শুধু চাকরির পেছনে ছোটার মানসিকতা থেকে বের করে এনে উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা খাত সংস্কারের প্রচেষ্টার বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, শিক্ষাকে একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা, যা বৈষম্য দূর করবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।”

প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বেশ কিছু নীতিগত সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রমের প্রসার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যের শেষে বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে শিক্ষার মান হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার উপযোগী, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরি প্রত্যাশী হবে না, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তায় পরিণত হবে।”

এই দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনার আলোকে নতুন শিক্ষা উপদেষ্টার নেতৃত্বে শিক্ষাখাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে দেশের শিক্ষা মহল।

জাতীয়

সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না : এডিসি জুয়েল

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।” সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব […]

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।”

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এডিসি জুয়েল। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

এডিসি জুয়েল আরও বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে কড়া নজরদারিতে। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভাষা ব্যবহারের সমালোচনাও করছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করা এবং দুষ্কৃতকারীদের সতর্ক করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেবে না বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের […]

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০০:৩১

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন।

উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে। এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।