সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সাবেক আইজিপি বেনজীরের ক্যাশিয়ার মিজান গ্রেফতার

রংধনু গ্রুপের পরিচালক ও রূপগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ভাটারা থানার যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিজানুর রহমান রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাই এবং রফিকুলের সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. ওবায়দুর রহমান […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৯

রংধনু গ্রুপের পরিচালক ও রূপগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ভাটারা থানার যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিজানুর রহমান রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাই এবং রফিকুলের সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. ওবায়দুর রহমান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, ভূমি দখল, লুটপাট, মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর যেকোনো একটিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রফিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানের মাধ্যমে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ অবৈধভাবে উপার্জন করা অর্থের বিশাল একটি অংশ বিনিয়োগ করেছেন, বিশেষ করে দুবাই, সিঙ্গাপুর, কক্সবাজার ও ঢাকায় বিভিন্ন হোটেল এবং স্বর্ণ ব্যবসায় এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।
রফিকুল-মিজানুরের মাধ্যমে বেনজীরের বিদেশে বিনিয়োগের অন্যতম দুবাইয়ে শতকোটি টাকার হোটেল ব্যবসা।
রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বেনজীরের মালিকানায় দুবাইয়ের হোটেলটির নাম রয়াল কনকর্ড হোটেল অ্যান্ড সুইট। বিলাসবহুল এই হোটেলের অবস্থান দুবাই শহরের কেন্দ্রস্থল মাকতুম স্ট্রিটে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুবাই ক্রিক, গলফ ও ইয়ুথ ক্লাব, সোনা ও মসলার বাজার এবং কেনাকাটা ও অবসর কেন্দ্রগুলোর খুব কাছে হোটেলটির অবস্থান।
দুবাই গ্র্যান্ড মসজিদ থেকে এর দূরত্ব তিন কিলোমিটার।
রফিকুল-মিজানুরের মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচার করে গড়ে তোলা বেনজীরের এই হোটেলে আছে অ্যাপার্টমেন্ট, এক্সিকিউটিভ, সুইটসহ অত্যাধুনিক রুম। যেগুলোর ভাড়া ৩৫০ দিরহাম থেকে শুরু করে এক হাজার ৫০০ দিরহাম। টাকায় হোটেলটির রুমভাড়া ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত এই দুই ভাইয়ের মাধ্যমে বেনজীর সিঙ্গাপুরে গড়ে তুলেছেন সোনার ব্যবসা।
তাঁর জুয়েলারি শপটির নাম নিজি জুয়েলার্স (হরলর লবিষবত্ং)। এটির অবস্থান সিঙ্গাপুরের মুস্তফা মার্কেটের পাশে। দেশ থেকে পাচার করে প্রতিষ্ঠানটিতে বেনজীর প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
দুবাই-সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি রফিকুল-মিজানুরের মাধ্যমে বেনজীরের অবৈধ টাকা কক্সবাজারের কলাতলিতে দুটি বিলাসবহুল হোটেলে বিনিয়োগ করা হয়েছে। হোটেল দুটি হলো—হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্রিমিয়ার ও হোটেল রামাদা লিমিটেড। একইভাবে বনানীর সি ব্লকের ১৫ নম্বর রোডের ৫৯ নম্বরে বেনজীরের অবৈধ টাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে হোটেল ইউনিক রিজেন্সি।
রফিকুল-মিজানুর আয়নাঘরের কারিগর চাকরি হারানো বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে শতকোটি টাকার বাগানবাড়ি উপহার দিয়েছেন। বেনজীর-জিয়াউলের মতো ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুই ভাই রূপগঞ্জ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভোট জালিয়াতি করে মিজানুর রহমান রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) রংধনু গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে মিজানুর রহমানের অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তও করা হচ্ছে।
মিজানুর রহমান রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আপন ভাই রফিকুল ইসলামের ছত্রচ্ছায়ায় রূপগঞ্জে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। মিজানুর-রফিকুল দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি নিয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রূপগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, বিনা অপরাধে মানুষের ওপর অত্যাচার, মাদক বাণিজ্যসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের গড়ে তোলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেউ কথা বলা সাহস পায়নি। কারণ যাঁরা কথা বলেছেন কিংবা মামলা করেছেন, তাঁদের হত্যা কিংবা নির্যাতন চালিয়ে এলাকাছাড়া করেছেন মিজানুর রহমান। রফিক-মিজান মিলে দুই শতাধিক পরিবারকে এলাকাছাড়া করেছেন। দুই ভাই মিলে সাধারণ মানুষের জমি জবরদখলসহ মাদরাসা, ঈদগাহ, কবরস্থানের জমিও দখল করেছেন।
গত বছর ৪ ডিসেম্বর নৌ পুলিশের সদস্যরা রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া বাজারের পাশে সেতুর নিচ থেকে শিশু ওসমান গণি স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করেন। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে রফিকুল ইসলামের নির্দেশে তাঁর ভাই মিজানুর রহমান হত্যা করেন।
এ বিষয়ে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শিশুটির পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনের বাবা শাহিনুর রহমান বলেনছিলেন, ‘আমার সন্তানের হত্যাকারী কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রংধনু গ্রুপের মালিক রফিকুল ইসলাম এবং তার ভাই মিজানুর রহমান। রফিকুল ইসলামের কথামতো বাড়ি-জমি লিখে না দেওয়ায় আমার শিশুসন্তান স্বাধীনকে হত্যা করা হয়। তারা এত প্রভাবশালী যে সন্তানকে কবর দেওয়ার পর থেকে আমরা আর বাড়িতে থাকতে পারি না। থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি।’
মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তারের বিষয়ে শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রফিক এলাকায় এত বেশি প্রভাবশালী ছিল, আমি সন্তান হত্যার বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করতে পারিনি। থানায় গেলে হত্যার বদলে অপমৃত্যুর মামলা করতে পরামর্শ দেয় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত মিজানুর রহমান গ্রেপ্তার হয়েছে। আশা করি এবার আমার শিশুসন্তানের হত্যার বিচার পাব। শিশুসন্তান হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে আমি বর্তমান সরকারের কাছে আহ্বান জানাই।’
হত্যা, জমিদখল, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে রফিক-মিজানের বাহিনীর কথা উল্লেখ করে এক ভুক্তভোগী জয়নাল মিয়া বলেন, ‘রফিক তার বাহিনী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করেছে। এজন্য তার ভাই মিজানুর রহমান এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ জনের বাহিনী গড়ে তোলে। এদের সবার কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকার কেউ অভিযোগ দিলেও পুলিশ কখনো তাদের গ্রেপ্তার করেনি। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসীর একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। মিজানের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকার মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। আমরা চাই, রফিককেও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’
কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কবির হোসেন বলেন, ‘রফিক ও মিজানের নিপীড়নের শিকার হয়নি এই নাওড়ায় এমন কোনো মানুষ নেই। দুই ভাইয়ের অত্যাচার থেকে হিন্দু-মুসলমান কেউ বাদ যায়নি। সবার জায়গায় জোর করে বালু ফেলে ভরাট করে দখলে নিয়েছে তারা।’
ভুক্তভোগী আফরোজা বেগম বলেন, ‘এখন আর আমাদের কিছু নেই। মিজানুর তার বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে সব দখলে নিয়েছে। বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছে। ছেলে- মেয়ে নিয়ে এখন বাবার বাড়িতে থাকি।’
মিজানের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলা
মিজানুর রহমানকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন মো. হানিফ নামের এক ব্যক্তি। মামলা নম্বর ১৬/৩১৯। মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মারধর করা, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো, হত্যার হুকুম দানের অপরাধে মামলাটি করা হয়। আরেক মামলার বাদী মো. আইয়ুব আলী। মামলা নম্বর ১৯/৩৫০। রূপগঞ্জ থানায় করা মামলার এজাহারে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করাসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি গুরুতর জখম, হুকুম দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকির অপরাধ উল্লেখ করা হয়।
মো. আফজাল কবির নামের আরেক ব্যক্তি রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ২০/৩৫১। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় ভাঙচুর, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ। মো. শিহাবুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি রাজধানীর মিরপুর থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ৭৫৪/২০২৪। মো. বাবুল সিকদার নামের আরেকজন রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ২১/৩৫২। এই মামলার এজাহারে ভাঙচুর ও চুরির পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকির অপরাধের কথা বলা হয়েছে। মো. হানিফ নামের আরেক ব্যক্তি সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ১৬/৩১৯। মামলার এজাহারে হত্যা, মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মারধর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করা হয়েছে।
মো. শিহাবুল ইসলাম নামে একজন (সিআর মামলা) এজাহারে ৩০২, ১৪৯ ও ৩৪ দণ্ডবিধি ১৮৬০ ধারায় অভিযোগে এনেছেন। মো. শুভ নামের একজন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর ৩(২) ও ৪(২) ধারা অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছেন। মো. বিল্লাল হোসেন নামের একজন রূপগঞ্জ থানায় করা মামলায় (মামলা নম্বর ২২/২১০) ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩০২/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/১১৪/১৪৯ ধারায় মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগে এনেছেন। মো. সুমন নামের একজন রূপগঞ্জ থানায় করা মামলায় (মামলা নম্বর ৩৬/৭৪৩) হুকুম দিয়ে প্রাণনাশের হুমকির পাশাপাশি ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগ এনেছেন। মো. আলী আজগর ভুঁইয়া নামের একজন (সিআর মামলা নম্বর ৪৩৮/২০২৩) এজাহারে ১৪৩/৪৪৮/৩২৭/৩০৭/৪২৭/৫০৬ দণ্ডবিধির অভিযোগ এনেছেন। এ ছাড়া শাহীন নামের একজন (সিআর মামলা নম্বর ১১/২২৪ খিলগাঁও) একটি মামলা করেছেন।  এর বাইরে শাহীনুর নামের একজন খিলগাঁও থানায় করা মামলায় মিজানের বিরুদ্ধে (মামলা নম্বর ১১/২০২৪) ৩৬৪/ক, ৩০২, ২০১, ৩৪, ৫০৬ দণ্ড বিধির অভিযোগ করেছেন।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।