পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে এমন কোনো রায় দিতে চান না, যা ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়বে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চদশ সংশোধনীর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্য করেন।
শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বর্তমান অবস্থায় থাকা প্রয়োজন, আর কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পরবর্তী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, জামায়াতের আইনজীবীরা যেমন বলেছেন—শুনানি মুলতবি রেখে সংশোধনীটি ভবিষ্যৎ সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের মত কী।
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, রাষ্ট্রপক্ষ চায় এই মামলার শুনানি এখনই পুরোপুরি শেষ হোক এবং আপিল বিভাগ থেকে একটি চূড়ান্ত রায় আসুক। তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা আগের আপিল বিভাগের মতো এমন কোনো রায় দিতে চাই না, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নতুন আপিল বিভাগ গঠিত হলে সেখানে শুনানি হলে কেমন হয়? অথবা দীর্ঘ মুলতবি দিলে তো সবাই সুবিধা পায়।”
পরে রাষ্ট্রপক্ষ আবার শুনানি শুরু করে জানায়—তারা আজই মূল শুনানি শেষ করবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদ পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সংশোধনী ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে গত বছর হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়। একটি সুজন সম্পাদকসহ পাঁচ নাগরিকের, অন্যটি নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেনের। হাইকোর্ট ১৭ ডিসেম্বর চূড়ান্ত রায় দেয়।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানিই এখন আপিল বিভাগে চলছে, আর এর মধ্যেই প্রধান বিচারপতির সতর্ক মন্তব্য নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।