বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

যেভাবে শবে বরাতের রাতে ইবাদত করতে হবে

শাবান মাসের ১৫তম রাত, বা ‘শবে বরাত’, বিশেষ একটি বরকতময় রাত, যা মুসলিমদের জন্য ইবাদত ও তাওবা করার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত ও দয়া বর্ষণ করেন। তবে, এ রাতের বরকত লাভের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো মুমিনের পালন করা উচিত। ১.আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন না […]

নিউজ ডেস্ক

০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ২১:৩১


শাবান মাসের ১৫তম রাত, বা ‘শবে বরাত’, বিশেষ একটি বরকতময় রাত, যা মুসলিমদের জন্য ইবাদত ও তাওবা করার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত ও দয়া বর্ষণ করেন। তবে, এ রাতের বরকত লাভের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো মুমিনের পালন করা উচিত।

১.আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন না করা
আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করা থেকে সর্বদা বিরত থাকা। আল্লাহ শিরকের গুনাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। সুরা নিসার ৪৮ নং আয়াতে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করে, সে এক মহাপাপ রটনা করে।’

এ সম্পর্কে একাধিক হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। বুখারী ও মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,‘এক ব্যক্তি রসুল সা.কে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রসুলাল্লাহ! আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে বড় অপরাধ কোনটি? তিনি উত্তরে বললেন, কাউকে আল্লাহ তায়ালার সমকক্ষ সাব্যস্ত করা অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সহিহ বুখারী, হাদিস : ৬৮৬১; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪২) তাই এ রাতে ক্ষমা লাভের জন্য শিরক থেকে সর্বদা বিরত থাকা।

২.হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করা
কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করা। এ ব্যাপারেও হাদিসে নববীতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল সা. ইরশাদ করেছেন,‘প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। ফলে যারা আল্লাহ তায়ালার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না, এমন প্রত্যেক বান্দাকে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন। তবে ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না, যার মাঝে এবং তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের মাঝে বিদ্বেষ রয়েছে। তখন (ফেরেশতাদেরকে লক্ষ্য করে) বলা হয়, এই দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে (ক্ষমার ঘোষণা কার্যকর করা থেকে) বিরত থাকো, যতক্ষণ না তারা নিজেদের মাঝে সংশোধন করে নেয়। অনুরূপ কথা তিনবার বলা হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯১৬)

৩. রাত্রি জাগরণ ও নফল ইবাদত করা
এ রাতে যতটুকু সম্ভব একাকী নফল ইবাদত যেমন- যিকির-আযকার করা, দোয়া-দরুদ পড়া, কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা, নফল নামাজ পড়া, (সম্ভব হলে দীর্ঘ রুকু-সেজদা করা), তওবা-ইস্তিগফার করা, আল্লাহ তায়ালার কাছে রোনাযারী করা ইত্যাদি আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া। রসুল সা. নিজেও এ রাতে দীর্ঘ রুকু-সেজদা বিশিষ্ট নফল নামাজ আদায় করাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদতে মশগুল থাকতেন। (শুয়াবুল ঈমান (বায় হা কী), হাদিস : ৩৫৫৪)

৪. ইস্তেগফার ও দোয়া করা
ইস্তেগফার হলো, নিজ গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর দোয়া হলো, আল্লাহকে ডাকা, নিজ প্রয়োজন পূরণের জন্য তাঁর নিকট প্রার্থনা করা। আর মানুষ সর্বদাই মহান রবের মুখাপেক্ষী। তাই প্রতিনিয়ত তাঁকে ডাকা ও তাঁর নিকট প্রার্থনা করা। সে হিসেবে দোয়া একটি দৈনন্দিন আমল। আর হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী যেহেতু আল্লাহ তায়ালা এ রাতে বান্দার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন, তাই অন্য দিনের তুলনায় এ রাতে আরো বেশি গুরুত্বের সাথে কায়মনোবাক্যে দোয়া করা।

৫. ১৫ই শাবান রোযা রাখা
শবে বরাতের আরেকটি আমল হলো দিনে রোযা রাখা। যদিও সংশ্লিষ্ট হাদিসটি সনদের বিবেচনায় দুর্বল। তথাপি মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ নানা দলিলের আলোকে উক্ত দিনে রোযা রাখা সওয়াব লাভের কারণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হজরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেন, ‘শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও আর দিনের বেলায় রোযা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। আছে কি কোনো রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দান করবো। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি? আমি তাকে তা থেকে মুক্তি দান করবো। এভাবে সুবেহ সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে বলে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৮৮)

শাবান মাসের ১৫তম রাত আমাদের জন্য বিশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভের সুযোগ এনে দেয়। এই রাতের বরকত থেকে লাভবান হতে, আমাদের শিরক ও হিংসা পরিহার করা, নফল ইবাদত করা, ইস্তিগফার ও দোয়া করা এবং রোযা রাখা উচিত। তবে, এ রাতেও কিছু মানুষ আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়, যারা বিভিন্ন গুরুতর গুনাহে লিপ্ত থাকে। আমাদের উচিত এই রাতের মহিমাকে উপলব্ধি করে, নিজের গুনাহ মাফ করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।

লেখক: মুফতি মুখলিছুর রহমান

মুদাররিস: জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম কুষ্টিয়া

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।