সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

রাষ্ট্র গঠন ও সংস্কারের এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি

পূর্ববর্তী প্রকাশের পর : বর্তমানে আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, সংবিধান সংশোধন কিংবা সংস্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই এমন আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, কারণ সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা ও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। প্রতিটি রাষ্ট্রের কিছু মৌলিক নীতিমালা থাকে, যেগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। যখন এই নীতিমালায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা সমস্যা দেখা […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ জানুয়ারী ২০২৫, ১৯:২৫

পূর্ববর্তী প্রকাশের পর : বর্তমানে আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, সংবিধান সংশোধন কিংবা সংস্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই এমন আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, কারণ সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা ও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। প্রতিটি রাষ্ট্রের কিছু মৌলিক নীতিমালা থাকে, যেগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।

যখন এই নীতিমালায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দেয়, তখন তা সংশোধন কিংবা সংস্কার করা প্রয়োজন। এসব মৌলিক নীতিমালার মধ্যে অন্যতম হলো ‘ন্যায়বিচার’ বা ইনসাফ, যা একটি রাষ্ট্রের সঠিক ও কার্যকর পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।

আল-কুরআনে বর্ণিত রাষ্ট্র গঠন ও সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যখন মানুষদের ভিতরে বিচার করবে তখন ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করবে। (সুরা আন নিসা, আয়াত: ৫৮)

একটি রাষ্ট্রের মূল কাঠামো তার প্রশাসনিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, এবং প্রশাসনিক কাঠামোটি মজবুত হতে পারে তখনই, যখন রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকে। যেখানে ন্যায়বিচারের অভাব, সেখানে প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা সোয়াদে দাউদ আ. -কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, হে দাউদ! আমি পৃথিবীতে তোমাকে খলীফা বানিয়েছি। সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করো এবং খেয়াল-খুশীর অনুগামী হয়ো না। অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চিতভাবে জেনে রেখ, যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। (সুরা সোয়াদ,আয়াত: ২৬)

বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে রাষ্ট্রপ্রধানরা ক্ষমতায় আসার পর অনেক সময় নিজের দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে বিচারের প্রতি অবিচল থাকতে পারেন না, ফলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু ইসলামের ইতিহাসে ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা এমন এক শক্তিশালী মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা প্রমাণিত করেছে যে, যখন কোনো রাষ্ট্র ন্যায়বিচারের পথে পরিচালিত হয়, তখনই সেখানে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

আল-কুরআন শুধু মুসলমানদের জন্যই নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন জীবন ব্যবস্থা, যা সকল মানুষের জন্য। এখানে দেওয়া নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করলে, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ছাড়াই সমস্ত মানবজাতি ন্যায্য বিচার পাবে।

আজকের আধুনিক পৃথিবীতে আমরা যখন কোনো নতুন আবিষ্কার বা প্রযুক্তি ব্যবহার করি, তখন সেই আবিষ্কারকের নির্দেশনা মেনে চলা হয়, কারণ আবিষ্কারকই সবচেয়ে ভালো জানেন তার সৃষ্টি কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। তেমনি, যেহেতু মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীসহ সমস্ত সৃষ্টি করেছেন, তিনি সবচেয়ে ভালো জানেন কীভাবে পৃথিবী সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

তিনি পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে পৃথিবী পরিচালনার জন্য পূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাই, যদি আমরা পৃথিবীতে সত্যিকার শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা চাই, আমাদের অবশ্যই তাঁর দেয়া নির্দেশনার অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহর নির্দেশনার বাইরে কোনোভাবেই পৃথিবী সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতে পারে না।

এই বাস্তবতা আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, সংবিধান বা সংস্কার নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে, যে কীভাবে ন্যায়বিচার এবং মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পৃথিবীকে শান্তির পথে পরিচালিত করা সম্ভব।


লেখক: নাজমুল আরিফীন বিন মুহাম্মদ
শিক্ষার্থী: আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো মিশর।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।