শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

মেরাজের যাত্রাপথে নবীজি সা. যা দেখেছিলেন

রজব মাসের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও তওবার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই মাসে মুসলমানরা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ইসলামি ইতিহাসে এ মাসের তাৎপর্য অনেক। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসেই মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস, সেখান থেকে সপ্তম আকাশে ভ্রমণ করেন। ভ্রমণ পথে তিনি অনেক কিছু […]

নিউজ ডেস্ক

০৫ জানুয়ারী ২০২৫, ২১:১৫

রজব মাসের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও তওবার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই মাসে মুসলমানরা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ইসলামি ইতিহাসে এ মাসের তাৎপর্য অনেক। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসেই মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস, সেখান থেকে সপ্তম আকাশে ভ্রমণ করেন। ভ্রমণ পথে তিনি অনেক কিছু প্রত্যক্ষ করেন। এবং সাক্ষাৎ পান অনেকেরই।

মেরাজের যাত্রাপথে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী কী প্রত্যক্ষ করেছেন ও কাদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন। সেই বিষয় সম্পর্কে আজ আমরা জানবো। ইনশাআল্লাহ।

১. আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাৎ ও কথোপকথন

আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামাতের নিকট নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহকে সরাসরি দেখেছেন এবং কথা বলেছেন। কুরআনে এসেছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা দেখেছে, তোমরা কি সে বিষয়ে তার সাথে বিতর্ক করবে? নিশ্বয়ই সে (আল্লাহকে) আরেকবার দেখেছিল সিদরাতুল মুনতাহার (প্রান্তবর্তী বদরি বৃক্ষের) নিকট। (সুরা নাজম, আয়াত: ১২-১৪)

২. নবীগণের সাথে সাক্ষাৎ

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত আকাশে ৭ জন বিশিষ্ট নবীগণের সাক্ষাৎ পান। এছাড়াও ফিরে আসার পথে বায়তুল মুকাদ্দাসে অনেক নবীর সাক্ষাৎ পান। এবং নামাজে সকলের ইমামতি করেন। (মুসলিম, হাদিস: ১৭২)

৩. জান্নাতি ও জাহান্নামিদের সাথে সাক্ষাৎ

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রথম আসমানে যান-দেখেন এক ব্যক্তি, তার ডান পাশে কিছু রুহ আর বাম পাশে কিছু রুহের কাফেলা। তিনি ডানদিকে তাকালে হাসেন আর বাম দিকে তাকালে কাঁদেন। তিনি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্ভাষণ জানালেন। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, জিবরাইল (আলাইহিসালাম), কে তিনি? জিবরাইল আলাইহিসসালাম বললেন, ইনি আদম আলাইহিসসালাম। আর তাঁর দুই পাশে তাঁর সন্তানদের রুহ। ডানদিকেরগুলো জান্নাতি আর বামদিকেরগুলো জাহান্নামি। এজন্য তিনি ডানদিকে তাকিয়ে হাসেন আর বামদিকে তাকিয়ে কাঁদেন। (বুখারি, হাদিস: ৩৩৪২)

৪. গিবতকারী মানুষের সাথে সাক্ষাৎ

এমন একদল লোকের পাশ দিয়ে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গমন করেছিলেন, যাদের নখ ছিল তামার। এই নখ দ্বারা তারা স্বীয় মুখ ও বক্ষ আচঁড়াচ্ছিল। এদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জিবরাইল আলাইহিসসালাম নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন, এরা সেই লোক, যারা দুনিয়াতে একে অপরের গিবত করত। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২২৪)

৫. মুখভর্তি শাস্তি প্রাপ্ত মানুষের সাথে সাক্ষাৎ

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু লোককে দেখতে পেয়েছিলেন, যাদের ঠোঁট কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল, ঠোঁট কাটা মাত্র তা পুনরায় জোড়া লেগে পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেত। এদের সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জিবরাইল আলাইহিসসালাম রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে উত্তর দিলেন, এরা এমন বিষয়ে বক্তৃতা দিত, যা তারা নিজেরা আমল করত না। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২২৪)

৬. সুদখোরদের সাথে সাক্ষাৎ

শবে মেরাজে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন লোকদের দেখলেন, যাদের পেট ছিল এক একটি গৃহের মতো। পেটের ভেতরটা সাপে ভরা ছিল, যা বাহির থেকেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। প্রশ্ন করা হলে জিবরাইল আলাইহিসসালাম জানালেন, এরা সুদখোর। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২২৪)

৭. হাউজে কাওসারের মহান নেয়ামত

মোতি জহরতের প্রাসাদে ঘেরা একটি নহর দেখতে পেলেন, যার পানি ছিল মেশক-এর চেয়ে বেশি সুগন্ধিময়। এটা কী- নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে চাইলে জিবরাইল আলাইহিসসালাম বললেন, এর নাম,‘কাওসার’ যা আপনার প্রতিপালক একমাত্র আপনার জন্যই সুরক্ষিত করে রেখেছেন।

৮. চারটি নদীর দৃশ্য

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি নদীও দেখেছিলেন। এর মধ্যে দু’টি জাহেরি আর দুটি বাতেনি। বাতেনি দুটি জান্নাতে প্রবাহিত আর জাহেরি দুটি হচ্ছে, নীল ও ফুরাত।

৯. জান্নাতের আওয়াজ শুনে বেলালের মর্যাদা

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে প্রবেশ করে একপাশে একটি হালকা আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কীসের আওয়াজ? জিবরাইল আলাইহিসসালাম বললেন, মুয়াজ্জিন বেলালের কণ্ঠ। মিরাজ থেকে ফিরে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে বললেন, বেলাল সাফল্য অর্জন করেছে, আমি তার জন্য এমন সব মর্যাদা দেখেছি। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৫৭)

রজব মাস ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ মাস, যা মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, তওবা এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের সময়। এই মাসটি নবীজির মিরাজের মাধ্যমে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষার বার্তা নিয়ে আসে। রজব আমাদের জন্য এক নতুন সুযোগ, যেখানে আমরা আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে উন্নত করতে পারি।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।