মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

কারো ভুল হলে যেভাবে শুধরে দিতেন নবীজি

মানুষ স্বভাবতই ভুল করে থাকে। তবে ভুল করলে তা সংশোধন করা এবং অন্যকে সংশোধনের পথ দেখানো একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব। রসুলুল্লাহ সা. ছিলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও কার্যকরী পদ্ধতিতে মানুষের ভুল সংশোধন করেছেন। তাঁর এই পদ্ধতি আজও আমাদের জন্য অনুসরণযোগ্য। আজ আমরা জানবো, রসুলুল্লাহ সা.-এর ভুল সংশোধনের পাঁচটি প্রধান পদ্ধতি সম্পর্কে। […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:০৪

মানুষ স্বভাবতই ভুল করে থাকে। তবে ভুল করলে তা সংশোধন করা এবং অন্যকে সংশোধনের পথ দেখানো একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব। রসুলুল্লাহ সা. ছিলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও কার্যকরী পদ্ধতিতে মানুষের ভুল সংশোধন করেছেন। তাঁর এই পদ্ধতি আজও আমাদের জন্য অনুসরণযোগ্য।

আজ আমরা জানবো, রসুলুল্লাহ সা.-এর ভুল সংশোধনের পাঁচটি প্রধান পদ্ধতি সম্পর্কে। ইনশাআল্লাহ।

১. তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য নয়, সুন্দর করে বোঝানো

রসুলুল্লাহ সা. কখনোই ভুলকারীকে অপমান বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন না। বরং খুব সুন্দরভাবে তাকে ভুল বুঝিয়ে দিতেন। একবার মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম রা. রসুলুল্লাহ সা. -এর সঙ্গে নামাজে ছিলেন এবং ভুলক্রমে নামাজে হাঁচি দেয়ার পর তিনি ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলেছিলেন।

উপস্থিত লোকজন তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে থাকলে তখন তিনি চুপ হয়ে যাই। নামাজ শেষে রসুলুল্লাহ সা. তাকে তিরস্কার না করে,নম্রভাবে জানিয়ে দিলেন যে নামাজে কথা বলা উচিত নয়, এটি তাসবিহ, তাকবির এবং কোরআন তেলাওয়াতের জন্য নির্ধারিত।

২. ভালোবাসায় ভুল শোধরানো

একদিন গ্রামে বসবাসকারী এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সা.-এর মসজিদে প্রবেশ করল। এরপর সে ব্যক্তি মসজিদে প্রস্রাব করে ফেললে সাহাবিরা তাকে বাধা দিতে গেলে, রাসূলুল্লাহ সা. তাকে বাধা দিতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, তাকে ছাড় দিন।

এরপর তিনি নম্রভাবে তাকে বুঝালেন যে মসজিদ আল্লাহর ইবাদত ও স্মরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে, এখানে প্রস্রাব করা উচিত নয়। রসুলুল্লাহ সা. এর এই কোমল, সদয় পদ্ধতি মানুষকে দ্রুত সংশোধিত করার জন্য কার্যকর ছিল।

৩. ভুলের সঠিক বিকল্প বলে দেয়া

অনেক সময় আমরা ভুল ধরতে গিয়ে এর সঠিক বিকল্পের সন্ধান দিই না। রসুলুল্লাহ সা. যখন কাউকে ভুল করতে দেখতেন, তখন তিনি শুধু তিরস্কার করতেন না বরং সেই ভুলের সঠিক বিকল্পটিও জানিয়ে দিতেন।

একবার মসজিদে কফের একটি দাগ দেখে তিনি কষ্ট পেয়ে তা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেন, ‘তোমরা যখন নামাজে দাঁড়াও, তখন তোমরা তোমাদের রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলো।’ তিনি তাদের বলে দিলেন কীভাবে তাদের আচরণ সঠিক হতে পারে।

৪. বিবেকবোধ জাগিয়ে তোলা

ভুলকারীর বিবেকবোধকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা। কেননা রসুলুল্লাহ সা. কাউকে যখন ভুলে আবদ্ধ দেখতেন, তখন তিনি তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ না করে, বরং বিবেকবোধ জাগ্রত করতেন।

এক যুবক যখন রসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চাইলেন, তখন রসুলুল্লাহ সা. তাঁকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি এটা তোমার মা, বোন বা মেয়ের জন্য পছন্দ করো?’ যুবক বললেন, না আমি কখনো তা পছন্দ করব না।’

এরপর রসুলুল্লাহ সা. তার জন্য দোয়া করলেন, এবং যুবকের মনকে পবিত্র করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন। এই আচরণ যুবকটির বিবেককে জাগিয়ে তোলে ও তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

৫. ভুলের ভয়াবহতা জানানো

ভুলের শাস্তি বা ভয়াবহতা সম্পর্কে জানালে তা থেকে বিরত থাকা সম্ভব। রসুলুল্লাহ সা. কখনো কাউকে একটি ভুলের জন্য শুধু সংশোধন করতেন না, বরং সে ভুলের ভয়াবহতা বা শাস্তি সম্পর্কে সতর্কও করতেন।

একবার তিনি একজন সাহাবিকে মসজিদে নামাজের কাতার থেকে আগে বেরিয়ে যেতে দেখে তাকে তিরস্কার করেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে দাঁড়াবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করবেন।’ এই সতর্কতা শোনার পর সাহাবি তার ভুল বুঝতে পারলেন এবং সংশোধন হলেন।

রসুলুল্লাহ সা. -এর ভুল সংশোধনের এই পদ্ধতিগুলি আজও আমাদের জন্য অনুসরণযোগ্য, যা তিনি সবসময় প্রজ্ঞা, সহানুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে সম্পন্ন করেছেন।

অন্যদের ভুল সংশোধন করার সময় আমাদেরও এই পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ গড়তে পারি।

আমরা সবাই যেন রসুলুল্লাহ সা.-এর এই সুন্দর শিক্ষাগুলো আমাদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি। আমিন।

 

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।