মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

সিরিয়া কেন ইসলামি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র ভূমি?

মুলকে শাম শুধুমাত্র একটি ভূগোলিক অঞ্চল নয়, এটি ইসলামি ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, এবং ফিলিস্তিন, এই অঞ্চলগুলো প্রাচীনকালে মুলকে শাম হিসেবে পরিচিত ছিল। এই ভূমি ধর্মীয় ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে অসংখ্য নবী-রসুলের আগমন ঘটেছে এবং তাদের জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এখানেই সংঘটিত হয়েছে। ইসলামের আগমনের পর, শাম আরও বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে […]

নিউজ ডেস্ক

০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ২২:০২

মুলকে শাম শুধুমাত্র একটি ভূগোলিক অঞ্চল নয়, এটি ইসলামি ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, এবং ফিলিস্তিন, এই অঞ্চলগুলো প্রাচীনকালে মুলকে শাম হিসেবে পরিচিত ছিল। এই ভূমি ধর্মীয় ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে অসংখ্য নবী-রসুলের আগমন ঘটেছে এবং তাদের জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এখানেই সংঘটিত হয়েছে। ইসলামের আগমনের পর, শাম আরও বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে এবং তা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিকভাবে এক পবিত্র ভূমি হিসেবে পরিচিত।

কুরআন ও হাদিসে শামের উল্লেখ

কুরআন ও হাদিসে মুলকে শামের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবে এই ভূমির বরকত ও পবিত্রতা সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন। একে বরকতময় ভূমি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ বিরাজমান। সুরা আরাফের ১৩৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন, এই ভূখণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্যে আমি বরকত রেখেছি, যা শামের ভূখণ্ডের বিশেষ গুরুত্বকে প্রতিস্থাপন করে। এছাড়া সুরা বনি ইসরাঈল ১ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ভূমির চারপাশে আমি বরকত রেখেছি…। এই আয়াতগুলো আমারদেরকে শামের পবিত্রতা ও বরকতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

দ্বিন ও দুনিয়ার বরকত

শামের বরকত শুধুমাত্র দুনিয়ার বা জাগতিক উপকারিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক ইসলামি স্কলার এই ভূখণ্ডে বরকত বলতে এমন বরকত বুঝিয়েছেন, যা এখানে দ্বিন ও দুনিয়ার উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান। একদিকে, শাম ভূখণ্ডে অতুলনীয় পরিমাণ খাদ্য, ফলমূল, নদী ও রিজিকের প্রাচুর্য রয়েছে, যা দুনিয়ার বরকত হিসেবে গণ্য। অন্যদিকে, এখানেই বহু নবী-রসুল আবির্ভূত হয়েছেন এবং আসমানি অহি তাদের মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে। এককথায় শাম দ্বিন ও দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ বরকতময় ভূমি।

হাশরের ময়দান শামে

ইসলামি ইতিহাসে শামের ভূমির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি হাশরের ময়দান হবে। হাদিসে এসেছে, শাম হলো হাশরের ভূমি, যা শামের ধর্মীয় মর্যাদাকে আরো দৃঢ় করে। নবী করিম সা. বলেন, সেখানেই তোমাদের হাশর হবে, যা মুসনাদে আহমদে (৩৩/২১৪) বর্ণিত হয়েছে। শাম ভূমির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যেখানে ভবিষ্যতের মহা ঘটনা সংঘটিত হবে।

যেখানে ফেরেশতারা নিজের ডানাকে ছড়িয়ে দেন

নবী করিম সা. শামের পবিত্রতা সম্পর্কে আরও বলেন, ফেরেশতারা শামের ওপর নিজেদের ডানা বিস্তার করেন, যা জামে তিরমিজিতে (৩৯৫৪) বর্ণিত হয়েছে। এটি শামের ভূখণ্ডের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং মুসলিমদের জন্য একটি পবিত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত।

শাম ইসলামের প্রধান ঘাঁটি

ইসলামিক ইতিহাসে শাম ভূমির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। নবী করিম সা. শামের জন্য দোয়া করেছেন, হে আল্লাহ! আমাদের শাম দেশে ও ইয়েমেনে বরকত দান করুন, যা সহিহ বোখারীতে (১০৩৭) উল্লেখিত। শাম ভূমির ইসলামি গুরুত্বকে আরও পরিষ্কার করে।

শামের জন্য নবীর অসিয়ত

নবী করিম সা. তার উম্মতকে শামে অবস্থানের জন্য অসিয়ত করেছেন। মুসনাদে আহমদ (৯/১৪৫)-এ বর্ণিত রয়েছে, তখন শামের ভূমিকে আঁকড়ে ধরবে, যা শামের ভূখণ্ডের বিশেষ মর্যাদাকে নির্দেশ করে।

শাম মুসলিমদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়

হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, কিয়ামতের আগে শাম হবে নিরাপদ ও ফেতনা-মুক্ত অঞ্চল। শাম তখন নিরাপদ থাকবে ও মুসলিমরা সেখানে ফেতনামুক্ত থাকবে, (আন নিহায়া ফি গরিবিল : ৩/২৭১) শাম ভূখণ্ড শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরাপত্তার প্রতীক।

শাম ভূমি শুধুমাত্র ভূগোলিক দিক দিয়ে নয়, এটি ইসলামের ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও বরকতের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। আল্লাহ তায়ালা এই অঞ্চলের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং সেখানে অবস্থানকারী মুসলিমদের জন্য এক নিরাপদ ও বরকতময় স্থান হিসেবে বিবেচিত করেছেন। নবী করিম সা. -এর দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য একটি প্রেরণা, যাতে আমরা শামের এই পবিত্র ভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও তার বরকত থেকে উপকৃত হতে পারি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শামের বরকত থেকে লাভবান হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।