ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে কঠোরভাবে ঘিরে রেখে শহরকে কার্যত ‘সিল’ করে দিয়েছে, ফলে শহরের বাইরে চলে যাওয়া মানুষদের আবার ফিরে আসতে বাধা দিচ্ছে সৈন্যরা। আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলো গাজার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করেছে এবং শহরের দক্ষিণভাগে রাস্তায় বালির বাঁধ দিয়ে নিজ ঘাঁটিতে পাঠানো হচ্ছে মানুষের চলাচলকে কড়াভাবে নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, যারা খাদ্য ও দৈনন্দিন জিনিসপত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছেন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে; অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে, কিন্তু তাদের ফিরে আসার পথ বন্ধ করে দেয়ায় মানুষের তীব্র দুর্ভোগ বাড়ছে। এই সংঘবদ্ধ কৌশলিক অভিযানকে ঘিরে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অব্যাহত পূর্ণাঙ্গ অভিযানের মুখে গাজার বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যাওয়ার এবং শহরে হামাস কর্মীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্য এটিই শেষ সুযোগ।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, যারা চলে যাবেন তাদের সামরিক বাহিনী যাচাই-বাছাই করবে—ব্যক্তিদের বিকল্প নিরাপত্তা ও যাচাই প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তার বক্তব্য যুদ্ধজ্যান্ত পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবটি বিশ্লেষণ করছে। হোয়াইট হাউসের বরাতে জানা গেছে, ওই প্রস্তাবে গাজায় একটি অস্থায়ী টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন, গাজার প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতি পুনর্গঠন এবং কাউকে জোর করে গাজা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হবে না—সহজ কথায় এটি যুদ্ধবিরতি ও পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত একটি কাঠামো প্রস্তাব করে। প্রস্তাবটি বলছে, দুইপক্ষ যদি এ পরিকল্পনা গ্রহণ করে তাহলে যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ও মৃত সব বন্দী প্রতিদান করা হবে এবং অতিরিক্ত বন্দীদের মুক্তি পরবর্তী সময়সূচি অনুযায়ী কার্যকর হবে।
এই প্রস্তাবনায় উল্লেখ আছে, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের পরে আটক গাজা থেকে ২৫০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ও ১৭০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া ইসরায়েলি সৈন্যদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সামরিক অভিযান স্থগিত করার ব্যাবস্থা আনা হবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাহিনী নিরাপত্তা প্রদান করে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে—তবে মাঠের বাস্তবতা ও জনগণের নিরাপত্তা নির্ভর করবে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রয়াস ও উপস্থাপনার ওপর।
কান্ডারিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সামরিকভাবে কড়া পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে শহর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা ও বাস্তব বাধা—এ ধরনের অবস্থায় ঘরছাড়া ও সাহায্য না পাওয়ার আশঙ্কা তীব্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক ও সাহায্য সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, বসতি-বিশিষ্ট নগরকে ঘিরে রেখে তৎপরতার ফলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে এবং অসহায় জনগোষ্ঠীর দুর্দশা আরও গভীর হচ্ছে।
সামরিক পর্যায়ের কার্যক্রম, কূটনৈতিক প্রস্তাব ও মাঠের বাস্তবতার মধ্যকার এ দ্বন্দ্ব এখন আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে; ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করবে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক আলোচনা, মানবিক সহায়তা প্রবাহ বজায় রাখা এবং যেখানে সম্ভব সেখানে শান্তি-উপলক্ষ্য প্রতিষ্ঠার ওপর।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?