‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশে ব্যাপক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উত্তেজনা যাতে না বাড়ে, তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রশাসনের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার ঝুঁকি থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষত ফেসবুক, ইউটিউব ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সময়ের মধ্যে ডিজিটাল যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে।
প্রশাসনের আরো জানায়, উৎসবকালীন জনসমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখে বরেলির রামলীলা ময়দান ও রাবণ দহনস্থলসহ অন্যান্য জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও মোতায়েন করা হয়েছে প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্টেবলারি ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স । বিভিন্ন এলাকায় চলছে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি। একই সঙ্গে আশেপাশের জেলাগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ৪ সেপ্টেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলের সময়। কানপুরে মিছিলের পথে একটি তাঁবুতে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার ঝোলানো হয়েছিল। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো অভিযোগ তোলে, ওই জায়গাতেই রামনবমীর মতো হিন্দু উৎসব হয়। তাই এই পোস্টার ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়েছে।
এর পর থেকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে মুসলিমেরা অভিযোগ করেন, নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করায় তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে কয়েক সপ্তাহ পর বারানসিতে পাল্টা কর্মসূচি শুরু হয়।
ধর্মীয় নেতারা ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ পোস্টারের প্রতিবাদে ‘আই লাভ মহাদেব’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন।
পরবর্তীতে রাজ্যটির একটি মসজিদের সামনে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই হাজার মানুষের জমায়েত ঘটে। জুমার নামাজের পর এই জমায়েত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় নেতা তৌকির রাজা খানের ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিলের পরেও উত্তেজনা দানা বাঁধে।
ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা প্রায় সবাই মুসলিম। তৌকির রাজা খানসহ তার একাধিক সহযোগী ও আত্মীয়কেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ১৮০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২,৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?