মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ কিছুটা শীতল করার সম্ভাব্য যে মোড় দেখা দিচ্ছে, সেটার নেতৃত্বে এবার সরাসরি বিশাল কূটনৈতিক উদ্যোগ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাতে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু—তবে তার বাস্তবতা নির্ভর করছে হামাসের ইচ্ছা ও আন্তর্জাতিক চাপের ওপর।
হোয়াইট হাউসে সোমবার দুজনের বৈঠকের পর ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তি সংক্রান্ত ২০ দফা প্রস্তাব ঘোষণার কথা জানান এবং সেই ফ্রেমওয়ার্কে নেতানিয়াহু জানান, তিনি পরিকল্পনাটি মেনে নিয়েছেন; তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে,
“গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় আমি রাজি। তবে যদি হামাস এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে অথবা গ্রহণ করে পরে পিছু হটে তাহলে ইসরাইল একাই কাজটা শেষ করে দেবে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সহজ অথবা কঠিন যেকোনো পথেই এটি করা হবে; প্রথমত সহজ পথকে অগ্রাধিকার দেবো, কিন্তু এটাই করবো। ট্রাম্প উচ্চ কণ্ঠে আশা প্রকাশ করেন যে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতারা হামাসকে এ প্রস্তাবে রাজি করাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন, যা কূটনৈতিক প্ররোচনার মাধ্যমে সংঘাত টালার একটি পর্যায় হতে পারে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন বলছে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প নিজেই পরিকল্পনার বিবরণ ঘোষণা করার পরে তিনি এবং নেতানিয়াহু মিলিতভাবে তা তুলে ধরেছেন; পাশাপাশি ট্রাম্প জানান, ইসরাইলসহ কিছু দেশ তার উপস্থাপিত কাঠামো গ্রহণ করেছে, কিন্তু এখনও হামাস আত্মমর্যাদা রক্ষায় বা কৌশলগত কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দেয়নি।
উল্লিখিত প্রস্তাবের একটি মূল ধারায় বলা হয়েছে, যদি হামাস সম্মতি জানায় তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ও মৃত সব জিম্মি মুক্তি পাবে এবং হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে; জবরদস্তি করে জনগণকে অন্য দেশে পাঠানো হবে না এবং গাজার মানুষ গাজাতেই থাকবে, এক্ষেত্রে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠিত হবে যাতে আমেরিকা, ইউরোপ ও আরব দেশগুলো অংশ নেবে এবং বিশেষভাবে ট্রাম্পকে তা পরিচালনার মূল দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব আলোচ্য। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে বলেছে, যদি হামাস প্রস্তাব অস্বীকার করে বা মুখস্থতায় নাক সেকে পরে যায়, তৎক্ষণাৎ ইসরাইল এককভাবে প্রয়োজনে সামরিক উদ্যোগ নেবে এবং আমেরিকা তার সবরকম কুটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করবে।
এই প্রস্তাবটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে—এ প্রশ্ন এখন মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতি ও আরব বিশ্বের চাপ-প্রভাবের ওপর নির্ভর করছে; অনেকে মনে করেন, জোরালো নীতিনির্ধারণী চাপ ও আঞ্চলিক সমন্বয় ছাড়া এ ধরণের ফ্রেমওয়ার্ক টিকে থাকবে না, আর কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলছেন, এতে যদি সত্যিই জিম্মি মুক্তি ও অবরুদ্ধ নিবারণের কনক্রিট পদক্ষেপ থাকে, তবে সেটি হচ্ছে যুদ্ধবিরতি অর্জনের একটি বাস্তব উপায়, অন্যথায় এটি কেবল কূটনৈতিক উদ্যোগে থাকার আরেকটি অধ্যায় হিসেবে মর্যাদাহীনই থেকে যাবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?