ভারতের প্রতিরক্ষা সর্বাধিনায়ক (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান সরাসরি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ পরস্পরের প্রতি যেভাবে রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, তা ভারতের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
জেনারেল চৌহান বলেন, এই তিন দেশের ঘনিষ্ঠতা শুধু স্বার্থের জায়গা থেকে নয়, এটি একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত জোট গড়ার লক্ষণও হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক তাকে উদ্বিগ্ন করেছে। তিনি এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন।
তিনি আরও জানান, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটে থাকায় বাহ্যিক শক্তিগুলো, বিশেষত চীন, ‘ঋণ-কূটনীতি’র মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নিচ্ছে। এর ফলে, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ বেড়েছে, যা ভারতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জেনারেল চৌহান বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়—এই পরিস্থিতিও দুই দেশের সম্পর্ককে ভিন্ন মোড় দিয়েছে। চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা ভারতীয় কৌশলগত গেমপ্ল্যানকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
চীনের সামরিক প্রভাব সম্পর্কেও জেনারেল চৌহান সতর্ক করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান তাদের অধিকাংশ অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে চীনের কাছ থেকে। সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাতে চীনের প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকলেও, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি অস্বীকার করার উপায় নেই।
এর আগে, ভারতীয় উপসেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং আরও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ সামরিক অভিযানে চীন সরাসরি সহযোগিতা করেছে এবং যুদ্ধকে অস্ত্র পরীক্ষার ‘ল্যাব’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তার ভাষায়, পাকিস্তানের ব্যবহৃত ৮১ শতাংশ অস্ত্রই ছিল চীনা—যা যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করে কার্যকারিতা যাচাই করেছে বেইজিং।
চৌহানের এই মন্তব্য ভারতীয় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। স্পষ্টতই, নয়াদিল্লি এখন দক্ষিণ এশিয়ায় চীন-বন্ধুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সখ্যতাকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রথম সারির হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?