ইরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার পর থেকে তেলআবিব সরকার এই আগ্রাসনকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের শীর্ষ নেতারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে হামলার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। তারা দাবি করছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই এই হামলার মূল কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রও একই সুরে কথা বলছে। এমনকি ইসরায়েলের উচ্চপর্যায়ের কিছু নেতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। এরই মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধসংশ্লিষ্ট মন্তব্যের পর।
এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী মেইর মাসরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ইরানে অভিযানের পর ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষত এমন সময় যখন ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে পাকিস্তান পাল্টা জবাব দিতে পারে। তবে পাকিস্তান সরকার এই সম্ভাবনাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের পরমাণু কর্মসূচি শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হবে। এটি কোনো আক্রমণের জন্য নয়।”
তবে ইসরায়েলের সাবেক মন্ত্রীর হুমকিসদৃশ বক্তব্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে বিষয়টিতে ভিন্নমাত্রা যুক্ত করেছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের যুক্তরাষ্ট্র সফর। হোয়াইট হাউসে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, “জেনারেল মুনিরের সঙ্গে দেখা করে আমি সম্মানিত বোধ করছি।”
কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় যুদ্ধ এড়ানোর ক্ষেত্রে অসীম মুনিরের কূটনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “তিনি একটি সম্ভাব্য পরমাণু সংঘাত ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, বৈঠকে জেনারেল মুনির ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সাবেক মন্ত্রীর মন্তব্য কেবল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি এখন কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?