ক্যাথলিক চার্চের আধ্যাত্মিক নেতাদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ ভ্যাটিকান। ১৯২৯ সালে ইতালির রাজধানী রোমের মাঝখানে গড়ে ওঠে এই রাষ্ট্র। যার জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই খ্রিস্টান ধর্মযাজক, পুরোহিত ও সন্ন্যাসী। এবার সেই ভ্যাটিকানের আদলে মুসলিমদের জন্যও একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ইউরোপের দেশ আলবেনিয়া।
নতুন এই রাষ্ট্রকে তৈরি করা হবে বিশ্বে সুফিফাদের কেন্দ্র হিসেবে। আধ্যাত্মিক এই দেশে থাকবেনা কোন দেয়াল বা প্রাচীর। নিজস্ব প্রশাসন থাকলেও দরকার পড়বে না কোন পুলিশের। এমনকি এখানকার বাসিন্দাদের দিতে হবে না কোন ধরনের ট্যাক্স।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানে এমন পরিকল্পনার কথা জানান আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা। তার মতে এমন রাষ্ট্র তৈরি হলেও সেটি আলবেনিয়ার সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করবে না।
মূলত সুফি সম্প্রদায়ের অন্তর্গত বেকতাশি মুসলমানদের জন্য আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় একটি সার্বভৌম ক্ষুদ্ররাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা চলছে। গত বছর জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন এডি রামা। সেসময় তিনি বলনে, ভ্যাটিকান সিটির আদলে এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার নাম হবে ‘দ্য সভরেন স্টেট অফ বেকতাশি অর্ডার’।
গত ২০০ বছর ধরে মুসলিম সংখ্যাঘরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসলেও ২০২৪ সালে সেই তকমা হারায় আলবেনিয়া।
সর্বশেষ জরিপ অনুসারে আলবেনিয়ায় মোট জনসংখ্যার ৪৫ ভাগ মুসলিম ধর্মালম্বী। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২৪ শতাংশ মানুষই কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না।
ফলে আলবেনিয়ার বর্তমান বাস্তবতায় এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, এই রাষ্ট্র আলবেনিয়ায় বসবাসরত ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা ধারা ও বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্যেগের কথাও জানিয়েছেন অনেকে। কেননা আলবেনীয় মুসলিমদের সিংহভাগই সুন্নী মতাদর্শী। দেশটির মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ বেকতাশি সুফি মতাদর্শে বিশ্বাস করেন।ভ্যাটিকানের আদলে নতুন রাষ্ট্র তৈরি হলে সেটি শেষমেশ ইসলামের কোন মোডারেট ভার্সনে রূপ নেয় কিনা সেই আশংকাও রয়েছে অনেকের মনে।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে অটোম্যান সাম্রাজ্যের সময় সুফিবাদ ও বেকতাশি আদর্শ বিকশিত হয় বলে প্রচলিত রয়েছে। জানা যায়, সেই ধারাতেই ৩৬০ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বাংলাদেশের সিলেটে ধর্মপ্রচারে এসেছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রঃ)। তিরানায় নতুন এই রাষ্ট্র গঠিত হলে সেটি আলবেনিয়া সহ পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সুফি মতাদর্শের অনুসারীদের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে মনে করছেন অনেকে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?