সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের আন্দোলনের চাপে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তার জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। শুক্রবার ওই কর্মকর্তাকে মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।
পর্যবেক্ষক সংস্থাটি জানিয়েছে, সিরিয়ার ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা দেশটির স্থানীয় এক কর্মকর্তাকে আসাদের প্রতি আনুগত্য ও তথ্য পাচারের অভিযোগে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ওই কর্মকর্তার নাম মাজেন কেনেহ, যিনি সাবেক প্রশাসনের পরিচিত অনুগতদের একজন ছিলেন। তাকে রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে দুম্মারের রাস্তায় যোদ্ধারা মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করে।
কেনেহর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি বিদ্বেষপূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিবেদন তৈরি করতেন, যার ফলে অনেক যুবককে আসাদের শাসনামলে কারাগারে নির্যাতিত ও আটক থাকতে হয়েছে। সিরিয়ার নতুন শাসকদের যোদ্ধারা তার এই কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দায়ী করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
এই ঘটনা সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত শাসন ও নতুন প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিদ্রোহীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে গত ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এরপর দেশটির ক্ষমতায় আসে সুন্নি ইসলামপন্থী বিদ্রোহীগোষ্ঠী হায়াত তাহরির-আল-শাম (এইচটিএস)। এরপর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আসাদ অনুগতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাছের গুঁড়িতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে মাজেন কেনেহকে। তার জামাকাপড় রক্তাক্ত এবং মাথায় গুলির ক্ষত রয়েছে।
এ সময় ঘটনাস্থলে শিশুসহ শত শত মানুষকে দেখা যায়; যারা মরদেহের চারপাশে জড়ো হয়েছেন। ভিডিওতে অনেক মানুষকে মোবাইল ফোনে মাজেনের মরদেহের ছবি তুলতে ও ক্ষুব্ধ জনতাকে লাঠি দিয়ে মরদেহে আঘাত, এমনকি মাথায় লাথি মারতেও দেখা যায়। সূত্র: এএফপি।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?