ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি তার বার্তার শুরুতেই ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর শাহাদাতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই ক্ষতি শুধু ইরানের নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য এক বড় আঘাত।
বার্তায় তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র ও নেতৃত্বের শক্তির মূল উৎস জনগণ। জনগণের সক্রিয় উপস্থিতি ও সমর্থন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। তিনি বলেন, যদি আপনাদের শক্তি মাঠে উপস্থিত না থাকে, তবে নেতৃত্ব কিংবা জনগণের সেবায় নিয়োজিত কোনো প্রতিষ্ঠানই তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে না। তাই দেশের সংকটময় সময়ে জনগণের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতিকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে। তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করা উচিত এবং শত্রুদের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ইরান সামরিক চাপের মুখে নতিস্বীকারের কোনো নীতি গ্রহণ করছে না।
তিনি আরও বলেন, শত্রুদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। যদি তারা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সম্পদ থেকে সেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। আর যদি সেটিও সম্ভব না হয় তাহলে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার সমপরিমাণ ক্ষতি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মূল্য শত্রুদের অবশ্যই দিতে হবে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা তার বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, জাতির বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মতপার্থক্য থাকলেও কঠিন সময়ে সবাইকে একত্রে দাঁড়াতে হবে এবং দেশের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। তার মতে, জাতীয় ঐক্যই শত্রুদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করার সবচেয়ে কার্যকর শক্তি।
তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও যোদ্ধাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা সাহসিকতার সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করছে এবং শত্রুর আগ্রাসনের পথ রোধ করছে। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরোধ ফ্রন্টের দেশগুলোকে ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই শক্তিগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা জায়নবাদী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করবে।
আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী বলেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে যদি কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ডে শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে এবং সেই ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়, তাহলে ইরান সেই ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে বাধ্য হবে।
তার বক্তব্যে তিনি শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি কখনোই উপেক্ষা করা হবে না। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
বার্তার শেষ অংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যাতে ইরানের জাতি চলমান সংকটে দৃঢ় থাকে এবং শত্রুর ওপর নির্ণায়ক বিজয় অর্জন করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতির ঐক্য, বিশ্বাস ও প্রতিরোধের শক্তি ইরানকে আবারও গৌরবের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?