ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন খবর রোববার ১ মার্চ ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাতে আল জাজিরা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে দেশটির তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি আরও জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হয়েছেন। এই তথ্য প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দেখা দেয়।
এর আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেন, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সময় রোববার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।’ তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেইসব মার্কিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার—যাদের খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল। তিনি আমাদের গোয়েন্দা এবং অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরাইলের সঙ্গে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে, খামেনি বা তার সাথে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।’ তার এই বক্তব্যে সরাসরি যৌথ সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে। আমি গত রাতেই বলেছি, ‘এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’ তার বক্তব্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ভাঙনের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘আশা করি, বিপ্লবী গার্ড এবং পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সাথে একাত্ম হবে এবং এই দেশটাকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত। কারণ, শুধু খামেনির মৃত্যু নয়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলতে গেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই নিখুঁত এবং ভারী বিমান হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে।’ এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল—এমন তথ্যও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। হামলায় তার প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের ভেতরে ও বাইরে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এ তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদল ডেকে আনতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?