গত সপ্তাহে পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাবে খাইবার পাখতুনখাওয়ার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে পাকিস্তানের অন্তত ৪০টি সীমান্ত সেনা চৌকি দখলের দাবি করেছে আফগান বাহিনী। পাশাপাশি কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে জীবিত অবস্থায় আটক এবং অসংখ্য সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন তীব্র রূপ নিয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তীব্র সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আমাদের সেনারা পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপ ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তাদের অনেক সেনা নিহত হয়েছে এবং কিছু সেনাকে জীবিত আটক করা হয়েছে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, কাবুল এই অভিযানের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করতে চায় এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিশোধমূলক বার্তা দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে সীমান্তজুড়ে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। গত রোববার নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা নিয়ে আগেই দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ হয়েছিল।
আফগান পক্ষের দাবি অনুযায়ী, সীমান্তে একাধিক চৌকি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং পাকিস্তানি বাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের সাফল্য জোরালোভাবে তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অপরদিকে পাকিস্তানও পাল্টা দাবি করেছে যে তারা আফগানিস্তানের বিপুল সংখ্যক সেনাকে হত্যা করেছে এবং অসংখ্য সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইসলামাবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান হামলার জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো ইঙ্গিত আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
ডুরান্ড লাইন ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ, সীমান্তে চৌকি নির্মাণ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও। এখন প্রশ্ন, এই পাল্টাপাল্টি হামলা কি পূর্ণমাত্রার সীমান্ত সংঘাতে রূপ নেবে, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগে উত্তেজনা প্রশমিত হবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?