বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ঢাকার সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। দিল্লির কূটনৈতিক বার্তায় স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে তাদের কৌশলগত আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় গড়ে তুলতে চায় তারা।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই শুভেচ্ছা বার্তার মধ্য দিয়ে দিল্লি নতুন সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং তারেক রহমানের কাছে নরেন্দ্র মোদির চিঠি পৌঁছে দেন। ওই সফরে ওম বিড়লা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেন। কূটনৈতিক মহলে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ সরকার পরিবর্তনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এমন উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।
জয়সওয়াল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লির এই অবস্থান কেবল শুভেচ্ছা বিনিময়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি কেবল ইতিহাস নয়; জ্বালানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো বহুমুখী ইস্যু এখন সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
নয়াদিল্লি দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে নতুন প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে জয়সওয়াল বলেন, আমরা বাংলাদেশের সাথে আমাদের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করতে এবং সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভারত শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সৌজন্যে থেমে থাকতে চায় না; বরং নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুত কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে চলমান প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চায়।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে দিল্লি চায় ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে। ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের এই বার্তা কেবল শুভেচ্ছা নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত সমীকরণের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ কতটা সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় তা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?