রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার না পাওয়ার তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ২০১২ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্মমভাবে খুন হওয়া দর্জি বিশ্বজিৎ দাসের বড় ভাই উত্তম কুমার দাস।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ২ টার সময় বিশ্বজিৎ চত্ত্বরে বিশ্বজিৎ হত্যার ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে এই আক্ষেপ ব্যক্ত করেন।
উত্তম কুমার দাস বলেন, “আমি একমাত্র দাবি নিয়ে আসছি। আজ ১৩ বছর হয়ে গেল, আমরা এখনো বিচার পাইনি। আমি সরকারের কাছে এই দাবিই জানাই সরকার যেন আমার ভাইয়ের হত্যাকান্ডের বিচার করেন।”
তার এই দীর্ঘশ্বাসের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে বক্তারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক ট্যাগিং দিয়ে মানুষ হত্যার সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যার পরিপূর্ণ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উক্ত কর্মসূচিতে শিবির সমর্থিত অদম্য নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী মাসুদ রানা বলেন, “রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল তা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এদেশের মানুষ বিশ্বজিৎ হত্যার খুনিদের বিতাড়িত করেছে। অবিলম্বে বাকি খুনিদেরও ফাঁসির দাবি জানান তিনি।”
জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জিএস পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “২০১২ সালের এই দিনে ছাত্রলীগের বর্বর হামলার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি।
ছাত্রলীগের ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৮ জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কায়দায় তাদের জামিন দেওয়া হয়। আমরা বিশ্বজিৎ হত্যার পলাতক আসামীসহ তৎকালীন বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকদেরও বিচার দাবি করছি।”
ছাত্রশিবির সভাপতি ও ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আজকে আমরা এমন একটি দিনে উপস্থিত হয়েছি, যেদিন নিরীহ এক হিন্দু ভাইকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। মূলত সেদিন বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়নি, ঢাকা শহরের মানবতাকে হত্যা করা হয়েছিল।”
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে বিনা উস্কানিতে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পঁচিশ বছর বয়সী বিশ্বজিৎ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হেঁটে পার হওয়ার সময় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।