রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে বিশেষ বৃত্তি প্রদান, যথাসময়ে জাকসু নির্বাচন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন।
জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “গত ১৭ মে থেকে টানা তিনদিন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আবেদনের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এবং নভেম্বরে তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা এখনো করা হয়নি।”
তিনি বলেন, “আজ (রবিবার) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, আজকের মিটিং থেকে যদি শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।”
জাকসু নির্বাচনের তারিখ বারবার পরিবর্তনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন প্রথমে ২৭ নভেম্বর, পরে ২২ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ অজুহাত দেখিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। বারবার তারিখ পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও পরীক্ষার সময়সূচি বিপর্যস্ত হচ্ছে। এতে নির্বাচন কমিশনের কর্মদক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং ক্যাম্পাসে নির্বাচনী আমেজ বিঘ্নিত হচ্ছে।”
দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস। প্রায় ৮ বছর ধরে কাজ চললেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর কাছে কাজ হস্তান্তরের পর কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তাই দ্বিতীয় ধাপের কাজও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।”
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তিনটি বিষয়ে আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছে:
১. আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ বৃত্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ পৌঁছে দিতে হবে।
২. ৩০ ডিসেম্বর যেকোনো পরিস্থিতিতে জাকসু নির্বাচন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে; কোনো প্রকার বিলম্ব বা টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।
৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ অতি দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য এই ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর ছাত্রশিবির জবি শাখার পক্ষ থেকে প্রশাসনকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল, যেখানে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বৃত্তির তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছিল। এছাড়া জাকসু নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কারণ হিসেবে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত ও সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।