রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
বেগম খালেদা জিয়ার ভাগিনা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে যাত্রা শুরু করেছে “শিক্ষাবিদ ড. রফিকুল ইসলাম ফাউন্ডেশন”।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ফাউন্ডেশনটির যাত্রা শুরু পূর্বক বিস্তৃত আকারে সার্বিক কাজ সম্পাদনের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
ফাউন্ডেশনটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত নীলফামারী জেলার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে ১৪টি কর্মসূচিসহ আরো বিস্তৃত উন্নয়নমূলক কর্ম-পরিকল্পনা নিয়ে ফাউন্ডেশনটি যাত্রা শুরু করেছে। সেগুলো হলো:
১। মেধাবৃত্তি (Scholarship) প্রোগ্রাম: দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভিত্তিক বৃত্তি প্রদান।
২। ভর্তি ও পরীক্ষা সহায়তা: বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি ফি বা পরীক্ষার ফি প্রদানে আর্থিক সহায়তা।
৩। আইসিটি ও ডিজিটাল স্কিল প্রশিক্ষণ: “Digital Nilphamari” প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার, গ্রাফিক ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ।
৪। বিনামূল্যে কোচিং ও পাঠাগার সুবিধা: এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি কোচিং, Evening Study Camp ও লাইব্রেরি।
৫। কমিউনিটি লাইব্রেরি ও জ্ঞানকেন্দ্র: প্রতিটি ইউনিয়নে ছোট লাইব্রেরি স্থাপন ও অনলাইন রিসোর্স সরবরাহ।
৬। শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা: স্কুলভিত্তিক মেডিকেল ক্যাম্প ও পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ।
৭। শিক্ষক উন্নয়ন ও সম্মাননা: শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং “Best Teacher Award” প্রদান।
৮। পরিবেশ ও সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি: বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও “Green Campus” উদ্যোগ।
৯। নৈতিকতা ও নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ: শিক্ষার্থীদের জন্য “Good Student, Good Citizen” প্রোগ্রাম।
১০। নারী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা: মেয়েদের জন্য আলাদা বৃত্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্মসূচি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ক্যাম্পেইন।
১১। ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও উচ্চশিক্ষা সহায়তা: ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং বিদেশে স্কলারশিপ সংক্রান্ত পরামর্শ।
১২। পরিবহন ও আবাসন সহযোগিতা: দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ও হোস্টেল সহায়তা।
১৩। জরুরি তহবিল: দুর্ঘটনা বা হঠাৎ আর্থিক সংকটে সহায়তা।
১৪। বার্ষিক শিক্ষা উৎসব: মেধাবৃত্তি প্রদান, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও সেমিনার।
ফাউন্ডেশনটির বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, “আমরা চাই, দেশের প্রতিটি প্রতিভাবান শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে। এই ফাউন্ডেশন তাদের হাতে সুযোগের আলো তুলে ধরবে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবিকতার সমন্বয়ে একটি প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের স্বপ্ন।”
এছাড়াও ফাউন্ডেশনটির অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা মোঃ জিবরুন আজিন সিয়াম বলেন,“এ উদ্যোগ শুধু একটি ফাউন্ডেশনের রুপকল্প নয়, এটি এক নতুন মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মানের ক্ষুদ্র প্রয়াস। যেখানে শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম নিজের সম্ভাবনাকে খুঁজে পাক, আর সেই পথ দেখাতেই ফাউন্ডেশনটি কাজ করবে।”
আয়োজকরা জানান, “শিক্ষাবিদ ড. রফিকুল ইসলাম ফাউন্ডেশন” পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণেরও পরিকল্পনা রেখেছে। যা দেশের তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সার্বিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।