চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে জয় বা পরাজয় যাই হোক, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রতিশ্রুত ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী সাইদ বিন হাবিব।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আইটি ভবনে নিজের ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাইদ বিন হাবিব বলেন, “নির্বাচনে জয় বা পরাজয় দুটোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন। তাই নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তবে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাসে পরিণত করার চেষ্টা করব। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলব, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী মুক্তভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে পড়াশোনা করতে পারবে।”
সাইদ বিন হাবিব শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “ভোট দেওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অধিকার। তারা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই নির্বাচিত করবেন—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবার ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে ওএমআর ব্যালট পদ্ধতিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি ভোটকেন্দ্র ও ৬১টি ভোটকক্ষ। চাকসুর ২৬টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী, আর হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদের জন্য লড়ছেন ৪৯৩ জন প্রার্থী। মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৬ জন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষক, কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিএনসিসি ও প্রক্টরিয়াল টিম দায়িত্ব পালন করছে।
নির্বাচন কমিশন সচিব অধ্যাপক আরিফুল হক সিদ্দিক জানান, “সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট বক্স প্রদর্শনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হচ্ছে।”