ডাকসুর ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, “বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের ওপর গতকাল ফ্যাসিবাদী কায়দায় হামলা চালানো হয়েছে। তারা আবাসন ও চিকিৎসা ভাতার দাবিতে সম্পূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলন করছিলেন, অথচ তাদের ওপর দমননীতি প্রয়োগ করা হয়েছে।”
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ স্মৃতি আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, “শিক্ষকদের মূল্যায়ন না করতে পারলে শিক্ষা খাত পিছিয়ে পড়বে। আমাদের দেশে শিক্ষাখাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেখানে অনেক দেশ শিক্ষা ও গবেষণায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করে, সেখানে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। শিক্ষকদের ওপর এই ফ্যাসিবাদী হামলা নিন্দনীয়।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তির জন্যই আমরা গত ১৬ বছর লড়াই করেছি। কিন্তু সমাজের কিছু বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও শিক্ষকেরা মুক্তির কথা বললেও বাস্তবে শেখ হাসিনার জুলুমের পক্ষে থেকেছেন। তাদের ভণ্ডামিই ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘায়িত করেছে।”
ডাকসুর ভিপি আরও বলেন, “এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শিবির ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি সেই ট্যাগ দিয়েই বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের সমর্থনেই তখনকার ফ্যাসিবাদ টিকে ছিল।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ ভালো মানুষ তৈরি করা। জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনে ছাত্রশিবির ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
বিতর্কে বিরোধী দল হিসেবে ইতিহাস বিভাগ চ্যাম্পিয়ন এবং সরকারি দল হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ রানার্স-আপ হয়। ফাইনালে সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন ইতিহাস বিভাগের রুকসানা মিতু।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের বড় বোন ফারজানা হক।