মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

৩৫ বছর পর নতুন ভোর, চাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন

স্বপ্নযাত্রাদীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৫- অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। শেষবার এই নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর শিক্ষার্থীদের হাতে আবারও ফিরছে তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিত্বের অধিকার, ফিরছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন প্রভাত।ক্যাম্পাসজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। ছাত্ররা ভাবছে, আলোচনা করছে, কল্পনা করছে— কেমন হবে একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়। এই নবজাগরণের অগ্রযাত্রায় এক তরুণ মুখ হয়ে উঠেছেন মো. হিমেল খান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী (সেশন ২০২০–২১)। তিনি এ.এফ. রহমান হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।হিমেল খান ভিপি পদপ্রার্থীর কথা গুলো তুলে ধরেছেন -তানজিল কাজী প্রার্থী নয়, ভাই বা বন্ধুর মতো পাশে থাকতে চাই- প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে দেখতেছি ক্যাম্পাস হলে, কটেজে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে যাচ্ছি। হাসিমুখে সবার সাথে কথা হইতেছে, মনযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতেছি, আর চেষ্টা করি তাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে।“শিক্ষার্থীদের সমস্যা মানে আমার সমস্যা। আমি প্রার্থী হিসেবে নয়, একজন ভাই বা বন্ধুর মতো তাদের পাশে থাকতে চাই।”এই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে তাঁর নেতৃত্বের দর্শন। প্রকৃত প্রতিনিধি সেই ব্যক্তি, যিনি ক্ষমতার আসনে নয়— মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাঁর প্রচারণা কেবল ভোটের আহ্বান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবেগের বন্ধন তৈরি করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা— এই তাঁর মূল লক্একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও মানবিক এ.এফ. রহমান হল- আমার দৃষ্টি পরিষ্কার “এ.এফ. রহমান হল হবে আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত, স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি মডেল হল।”হলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হোক শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে। ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে আমি গড়ে তুলতে চাই এমন এক পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী জানতে পারবে কীভাবে তাদের প্রতিনিধিরা কাজ করছে।শিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ বাড়াতে আমি গঠন করতে চাই একটি বিশেষ শিক্ষার্থী তহবিল, যাতে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা পায় বৃত্তি ও সহায়তা। রিডিং রুমে নতুন বই, আধুনিক আলো-হাওয়ার পরিবেশ এবং নিয়মিত ক্যারিয়ার ও হায়ার স্টাডি সেমিনার আয়োজনও আমার পরিকল্পনাখাবার ও নিরাপত্তায় পরিবর্তনের ছোঁয়া-একজন শিক্ষার্থীর উন্নতির মূল ভিত্তি তার স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বস্তি— এই বিশ্বাস থেকেই আমার প্রতিশ্রুতি: হলে থাকবে একটি স্বাস্থ্যকক্ষ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।ক্যান্টিনে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করবেন পুষ্টিবিদ, আর প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ মেনুতে মানসম্মত গরু বা খাসির মাংস।খাবারের মান খারাপ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং প্রভোস্ট ও কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া ওয়াশরুমে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, টিস্যু ও সাবান সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুরো হল থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়। প্রতিটি ফ্লোরে থাকবে বিশুদ্ধ পানি ফিল্টার, উচ্চগতির ফ্রি ইন্টারনেট, এমনকি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুবিধার জন্য সেলুন ও লন্ড্রি সার্ভিস চালুরও অঙ্গীকার করেছ অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ- আমি বিশ্বাস করি আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাই আমার পরিকল্পনা রয়েছে ডরমেটরি ব্যবস্থা, যেখানে ক্লাস শেষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিশ্রাম নিতে পারবেন। তাদের জন্য গঠন করা হবে বিশেষ প্রতিনিধি টিম, যারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রমে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও থাকবে সমানভাবে।“অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও আমাদের পরিবারের সদস্য— তাদের সম্মান, সুযোগ ও অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে। একটি প্রাণবন্ত হল সংস্কৃতি- সংস্কৃতি ও খেলাধুলা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অপূর্ণ।, প্রতি তিন মাসে একবার অনুষ্ঠিত হোক ‘হল ফেস্ট’, যেখানে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নেবে। নিয়মিত বিতর্ক, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তৈরি হবে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল ক্যাম্পাস সংস্কৃতি।হলের চারপাশের সৌন্দর্যবর্ধনে আমি চাই ফুলের বাগান, গাছপালা, পরিচ্ছন্নতা, এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন।একটি পরিচ্ছন্ন হল মানেই একদল সুশৃঙ্খল ও আত্মসম্মানবোধে উজ্জ্বল শিক্ষাররাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও ঐক্যের বার্তা- সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার— রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও ভাইকালচারহীন একটি হল। এ.এফ. রহমান হল হবে এমন একটি জায়গা যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে। সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিআমাদের হল হবে এমন একটি পরিবার— যেখানে সবাইকে শোনা হবে, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে কিন্তু বিভেদ থাকবে না, আর আমরা একসঙ্গে কাজ করব একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়— এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীক, গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জন্ম, এবং একটি নতুন প্রজন্মের দায়িত্ববোধের সূচনএই নবযাত্রার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমি হিমেল খান অঙ্গীকার করছি —“আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলব এমন একটি হল, যা হবে আধুনিক, মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব— যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী গর্বের সঙ্গে বলতে পারবে, আমি ও এ.এফ. রহমান হলের শিক্ষার্থী।”

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৫, ২২:০৮

স্বপ্নযাত্রা দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৫- অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। শেষবার এই নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর শিক্ষার্থীদের হাতে আবারও ফিরছে তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিত্বের অধিকার, ফিরছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন প্রভাত।ক্যাম্পাসজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। ছাত্ররা ভাবছে, আলোচনা করছে, কল্পনা করছে— কেমন হবে একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়।

এই নবজাগরণের অগ্রযাত্রায় এক তরুণ মুখ হয়ে উঠেছেন মো. হিমেল খান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী (সেশন ২০২০–২১)। তিনি এ.এফ. রহমান হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। হিমেল খান ভিপি পদপ্রার্থীর কথা গুলো তুলে ধরেছেন -তানজিল কাজী 

প্রার্থী নয়, ভাই বা বন্ধুর মতো পাশে থাকতে চাই- প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে দেখতেছি ক্যাম্পাসহলে, কটেজে  প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে যাচ্ছি।

  হাসিমুখে সবার সাথে কথা হইতেছে, মনযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতেছি, আর চেষ্টা করি তাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে।“শিক্ষার্থীদের সমস্যা মানে আমার সমস্যা। আমি প্রার্থী হিসেবে নয়, একজন ভাই বা বন্ধুর মতো তাদের পাশে থাকতে চাই।”এই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে তাঁর নেতৃত্বের দর্শন।

  প্রকৃত প্রতিনিধি সেই ব্যক্তি, যিনি ক্ষমতার আসনে নয়— মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

তাঁর প্রচারণা কেবল ভোটের আহ্বান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবেগের বন্ধন তৈরি করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা— এই তাঁর মূল লক্একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও মানবিক এ.এফ. রহমান হল-

আমার  দৃষ্টি পরিষ্কার “এ.এফ. রহমান হল হবে আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত, স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি মডেল হল।”হলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হোক শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে।

ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে আমি গড়ে তুলতে চাই এমন এক পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী জানতে পারবে কীভাবে তাদের প্রতিনিধিরা কাজ করছে।শিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ বাড়াতে আমি গঠন করতে চাই একটি বিশেষ শিক্ষার্থী তহবিল, যাতে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা পায় বৃত্তি ও সহায়তা।

রিডিং রুমে নতুন বই, আধুনিক আলো-হাওয়ার পরিবেশ এবং নিয়মিত ক্যারিয়ার ও হায়ার স্টাডি সেমিনার আয়োজনও আমার পরিকল্পনাখাবার ও নিরাপত্তায় পরিবর্তনের ছোঁয়া-একজন শিক্ষার্থীর উন্নতির মূল ভিত্তি তার স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বস্তি— এই বিশ্বাস থেকেই  আমার প্রতিশ্রুতি:

হলে থাকবে একটি স্বাস্থ্যকক্ষ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।ক্যান্টিনে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করবেন পুষ্টিবিদ, আর প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ মেনুতে মানসম্মত গরু বা খাসির মাংস।খাবারের মান খারাপ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং প্রভোস্ট ও কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া ওয়াশরুমে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, টিস্যু ও সাবান সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুরো হল থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।

প্রতিটি ফ্লোরে থাকবে বিশুদ্ধ পানি ফিল্টার, উচ্চগতির ফ্রি ইন্টারনেট, এমনকি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুবিধার জন্য সেলুন ও লন্ড্রি সার্ভিস চালুরও অঙ্গীকার করেছ

অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ-

আমি বিশ্বাস করি আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাই আমার পরিকল্পনা রয়েছে  ডরমেটরি ব্যবস্থা, যেখানে ক্লাস শেষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিশ্রাম নিতে পারবেন।

তাদের জন্য গঠন করা হবে বিশেষ প্রতিনিধি টিম, যারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।

খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রমে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও থাকবে সমানভাবে।“অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও আমাদের পরিবারের সদস্য— তাদের সম্মান, সুযোগ ও অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে।

একটি প্রাণবন্ত হল সংস্কৃতি-

সংস্কৃতি ও খেলাধুলা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অপূর্ণ।, প্রতি তিন মাসে একবার অনুষ্ঠিত হোক ‘হল ফেস্ট’, যেখানে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নেবে।

নিয়মিত বিতর্ক, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তৈরি হবে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল ক্যাম্পাস সংস্কৃতি।হলের চারপাশের সৌন্দর্যবর্ধনে আমি চাই ফুলের বাগান, গাছপালা, পরিচ্ছন্নতা, এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন।একটি পরিচ্ছন্ন হল মানেই একদল সুশৃঙ্খল ও আত্মসম্মানবোধে উজ্জ্বল শিক্ষাররাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও ঐক্যের বার্তা-

সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার— রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও ভাইকালচারহীন একটি হল।

  এ.এফ. রহমান হল হবে এমন একটি জায়গা যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে। সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিআমাদের হল হবে এমন একটি পরিবার— যেখানে সবাইকে শোনা হবে, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে কিন্তু বিভেদ থাকবে না, আর আমরা একসঙ্গে কাজ করব একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়—

এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীক, গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জন্ম, এবং একটি নতুন প্রজন্মের দায়িত্ববোধের সূচনএই নবযাত্রার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমি হিমেল খান অঙ্গীকার করছি —“আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলব এমন একটি হল, যা হবে আধুনিক, মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব—

যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী গর্বের সঙ্গে বলতে পারবে, আমি ও এ.এফ. রহমান হলের শিক্ষার্থী।”

বিষয়ঃ

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।