স্বপ্নযাত্রা দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৫- অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। শেষবার এই নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর শিক্ষার্থীদের হাতে আবারও ফিরছে তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিত্বের অধিকার, ফিরছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন প্রভাত।ক্যাম্পাসজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। ছাত্ররা ভাবছে, আলোচনা করছে, কল্পনা করছে— কেমন হবে একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিশ্ববিদ্যালয়।
এই নবজাগরণের অগ্রযাত্রায় এক তরুণ মুখ হয়ে উঠেছেন মো. হিমেল খান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী (সেশন ২০২০–২১)। তিনি এ.এফ. রহমান হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। হিমেল খান ভিপি পদপ্রার্থীর কথা গুলো তুলে ধরেছেন -তানজিল কাজী
প্রার্থী নয়, ভাই বা বন্ধুর মতো পাশে থাকতে চাই- প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে দেখতেছি ক্যাম্পাসহলে, কটেজে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে যাচ্ছি।
হাসিমুখে সবার সাথে কথা হইতেছে, মনযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতেছি, আর চেষ্টা করি তাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে।“শিক্ষার্থীদের সমস্যা মানে আমার সমস্যা। আমি প্রার্থী হিসেবে নয়, একজন ভাই বা বন্ধুর মতো তাদের পাশে থাকতে চাই।”এই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে তাঁর নেতৃত্বের দর্শন।
প্রকৃত প্রতিনিধি সেই ব্যক্তি, যিনি ক্ষমতার আসনে নয়— মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
তাঁর প্রচারণা কেবল ভোটের আহ্বান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবেগের বন্ধন তৈরি করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা— এই তাঁর মূল লক্একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও মানবিক এ.এফ. রহমান হল-
আমার দৃষ্টি পরিষ্কার “এ.এফ. রহমান হল হবে আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত, স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি মডেল হল।”হলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হোক শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে।
ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে আমি গড়ে তুলতে চাই এমন এক পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী জানতে পারবে কীভাবে তাদের প্রতিনিধিরা কাজ করছে।শিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ বাড়াতে আমি গঠন করতে চাই একটি বিশেষ শিক্ষার্থী তহবিল, যাতে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা পায় বৃত্তি ও সহায়তা।
রিডিং রুমে নতুন বই, আধুনিক আলো-হাওয়ার পরিবেশ এবং নিয়মিত ক্যারিয়ার ও হায়ার স্টাডি সেমিনার আয়োজনও আমার পরিকল্পনাখাবার ও নিরাপত্তায় পরিবর্তনের ছোঁয়া-একজন শিক্ষার্থীর উন্নতির মূল ভিত্তি তার স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বস্তি— এই বিশ্বাস থেকেই আমার প্রতিশ্রুতি:
হলে থাকবে একটি স্বাস্থ্যকক্ষ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।ক্যান্টিনে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করবেন পুষ্টিবিদ, আর প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ মেনুতে মানসম্মত গরু বা খাসির মাংস।খাবারের মান খারাপ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং প্রভোস্ট ও কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ডাইনিংয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া ওয়াশরুমে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, টিস্যু ও সাবান সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুরো হল থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।
প্রতিটি ফ্লোরে থাকবে বিশুদ্ধ পানি ফিল্টার, উচ্চগতির ফ্রি ইন্টারনেট, এমনকি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুবিধার জন্য সেলুন ও লন্ড্রি সার্ভিস চালুরও অঙ্গীকার করেছ
অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ-
আমি বিশ্বাস করি আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। তাই আমার পরিকল্পনা রয়েছে ডরমেটরি ব্যবস্থা, যেখানে ক্লাস শেষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিশ্রাম নিতে পারবেন।
তাদের জন্য গঠন করা হবে বিশেষ প্রতিনিধি টিম, যারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কার্যক্রমে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও থাকবে সমানভাবে।“অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও আমাদের পরিবারের সদস্য— তাদের সম্মান, সুযোগ ও অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে।
একটি প্রাণবন্ত হল সংস্কৃতি-
সংস্কৃতি ও খেলাধুলা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অপূর্ণ।, প্রতি তিন মাসে একবার অনুষ্ঠিত হোক ‘হল ফেস্ট’, যেখানে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নেবে।
নিয়মিত বিতর্ক, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তৈরি হবে এক প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল ক্যাম্পাস সংস্কৃতি।হলের চারপাশের সৌন্দর্যবর্ধনে আমি চাই ফুলের বাগান, গাছপালা, পরিচ্ছন্নতা, এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন।একটি পরিচ্ছন্ন হল মানেই একদল সুশৃঙ্খল ও আত্মসম্মানবোধে উজ্জ্বল শিক্ষাররাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও ঐক্যের বার্তা-
সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার— রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও ভাইকালচারহীন একটি হল।
এ.এফ. রহমান হল হবে এমন একটি জায়গা যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজেকে নিরাপদ ও সম্মানিত মনে করবে। সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিআমাদের হল হবে এমন একটি পরিবার— যেখানে সবাইকে শোনা হবে, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে কিন্তু বিভেদ থাকবে না, আর আমরা একসঙ্গে কাজ করব একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়—
এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীক, গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জন্ম, এবং একটি নতুন প্রজন্মের দায়িত্ববোধের সূচনএই নবযাত্রার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমি হিমেল খান অঙ্গীকার করছি —“আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলব এমন একটি হল, যা হবে আধুনিক, মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব—
যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী গর্বের সঙ্গে বলতে পারবে, আমি ও এ.এফ. রহমান হলের শিক্ষার্থী।”