সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি প্রতিনিধি:
গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে ডোপ টেস্টের সনদ জমা দেওয়া এখন থেকে আবশ্যক। নির্বাচন কমিশন জানায়, মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীরা যাতে প্রার্থী হতে না পারে, সে কারণেই এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
গকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ‘গকসু নির্বাচন আচরণবিধি ২০২৫’ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি নতুন ও কঠোর শর্ত সংযোজন করা হয়েছে।
আচরণবিধির ৩ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীদের অবশ্যই নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত বা স্বীকৃত মেডিকেল সেন্টার থেকে ডোপ টেস্ট করাতে হবে এবং প্রাপ্ত রিপোর্ট মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
৫(চ) ধারায় বলা হয়েছে, প্রার্থীরা তাদের প্রচারণায় কোনো বহিরাগত, সাবেক শিক্ষার্থী, অছাত্র কিংবা রাজনৈতিক দলের সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রচারণায় কেবলমাত্র প্রার্থীর নিজের ছবি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ছবি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আচরণবিধি অনুযায়ী, একজন প্রার্থী কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন।
এছাড়া কোনো প্রার্থী শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা বিধিমালা অমান্য করলে নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে এবং প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপাচার্যের কাছে সুপারিশ করতে পারবে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তাদের ভাষ্য, এ উদ্যোগ মাদকমুক্ত, স্বচ্ছ ও নিয়মশৃঙ্খলাপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম করবে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফেরদৌস সালেহীন নিয়ন মনে করেন, ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তার মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শসম্পন্ন নেতৃত্ব উঠে আসবে। নেতৃত্ব একটি দায়িত্বশীল আমানত, তাই চরিত্রবান প্রার্থী নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী রিদুয়ানুল ইসলাম মানিক বলেন, মাদকাসক্তদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং নির্বাচনী খরচের সীমা বেঁধে দেওয়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে বহিরাগত প্রভাবমুক্ত নির্বাচন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মতামতকে প্রতিফলিত করবে।
ভিপি পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নাসিম খান বলেন, ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা এবং খরচ সীমার নিয়মকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে প্রশাসনকে অবশ্যই নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, নইলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে নেয়া এ পদক্ষেপ দেশের ছাত্র রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।