ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হল কমিটি ঘিরে ছাত্রদলে তীব্র বিতর্ক ও গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে অবশেষে ছয়জন বিতর্কিত নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছাত্রলীগের সাবেক বা নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীদের স্থান দেওয়ার অভিযোগে কমিটি গঠনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ছাত্রদল, যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়—তদন্তে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ আগস্ট ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ৫৯৩ সদস্যবিশিষ্ট হল কমিটি ঘোষণা করে। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল কমিটির আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আল হক শান্ত, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান সৌরভ, শামসুন নাহার হলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নিতু রানী সাহা, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু শেখ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সদস্য আহমেদ জাবির মাহাম ও এন এস সায়মন—এই ছয়জনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তাদের সবাইকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং তা অনুমোদন করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রদলের এ সিদ্ধান্ত মূলত ক্ষত মেরামতের চেষ্টা। কারণ গোটা ঢাবি জুড়ে ইতোমধ্যেই ছাত্রদলের হল কমিটিগুলো নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—গোপনে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের ঢুকিয়ে দিয়ে হলগুলোর রাজনীতিতে আবারও অস্থিরতা ফিরিয়ে আনছে ছাত্রদল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলছেন, ১৭ জুলাইয়ের পর থেকে রাজনীতিমুক্ত হলের জন্য তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ ছাত্রদল সেই আন্দোলনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিতর্কিতদের পদায়ন করেছে। এটি ঢাবির ছাত্র রাজনীতির জন্য মারাত্মক বিপদ।
ছাত্রদলের এই ‘দ্রুত’ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সেই ক্ষোভ কমাতে পারবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। কারণ কমিটির বাকি সদস্যদের মাঝেও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে একাধিক তথ্য ফাঁস হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা কয়েকজনকে বহিষ্কার করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না—এমনটাই মত দিচ্ছেন ছাত্র অধিকারকর্মীরা। তারা মনে করছেন, ঢাবির রাজনীতিতে যারা আগুন লাগিয়েছিল, তাদের ছাই চাপা দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।