মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ফেসবুকে মুজিব, আ’লীগ ও ছাত্রলীগ নিয়ে কটূক্তি, বহিষ্কৃত হয়েছিলেন ইবির তিন শিক্ষার্থী

ইরফান উল্লাহ, (ইবি প্রতিনিধি): ২০২০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, শেখ মুজিব এবং আ’লীগ নেতাকে নিয়ে মন্তব্য করায় ৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন সাবেক উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। সাময়িক বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন, বাংলা বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিদা সুলতানা ছন্দ ও একই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিকুল ইসলাম এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের […]

নিউজ ডেস্ক

৩০ জানুয়ারী ২০২৫, ২০:৪৯

ইরফান উল্লাহ, (ইবি প্রতিনিধি):

২০২০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, শেখ মুজিব এবং আ’লীগ নেতাকে নিয়ে মন্তব্য করায় ৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন সাবেক উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। সাময়িক বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন, বাংলা বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিদা সুলতানা ছন্দ ও একই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিকুল ইসলাম এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আশিকুল ইসলাম পাটোয়ারী”। তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কারের পূর্বে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শিয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর ই-মেইলে পত্র প্রেরণের জন্য বলা হয়।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ৭ এপ্রিল ২০২০ সালে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত শেখ মুজিব হত্যার আসামি হিসেবে মাজেদের গ্রেপ্তার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী সাজ্জাদ হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উক্তি টেনে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। ঐ পোস্টে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিদা সুলতানা ছন্দ শেখ মুজিব হত্যার বিচারকে ‘পুরাতন কাসুন্দি ঘাটা’ বলে করে মন্তব্য করেন।

তার এমন মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা ঐ ছাত্রীর শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবি জানান। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ৮ এপ্রিল রাতেই তানজিদা সুলতানাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

ঐ ঘটনার পরেরদিনই শেখ মুজিবকে কটুক্তির দায়ে “আশিকুল ইসলাম পাটোয়ারী” নামে আরেক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে প্রশাসন। ফেসবুকে নিজ টাইমলাইনে ‘শেখ মুজিবকে ফেরেশতারূপে হাজিরকরণ’ ও শেখ মুজিব হত্যার বিচারকে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করে স্ট্যাটাস দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করে প্রশাসন। ওই শিক্ষার্থী ছাত্র মৈত্রী ইবি শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন। উপরোক্ত ঘটনায় তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে ১৫ জুন প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মাদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে কটূক্তি করার অভিযোগে ছাত্র ইউনিয়ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের (ইবি) সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন । এসময় সাদিকুলের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়ার দাবি জানায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সংসদের নেতা-কর্মীরা।

একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটিও করা হয়। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণকে আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য হিসেবে ছিলেন আইন বিভাগের প্রফেসর ড. রেহানা পারভীন এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি ড. সাজ্জাদ হোসেন। পরে ঐ শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির কাছে যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেন। কমিটি তাদের কথা শ্রবণ শেষে কারণগুলো লিখিতভাবে দিতে বললে তারা তা জমা দেন।

তবে ততকালীন প্রশাসন পরিবর্তন হওয়ায় তাদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরবর্তী প্রশাসনের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, তিন শিক্ষার্থীই বিগত ভিসির সময়ে সাময়িক বহিষ্কৃত হয়েছিল। নতুন ভিসি আসার পর তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

সেসময় এ বিষয়ে ততকালীন ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী গণমাধ্যমকে বলেন, সবাই যখন জাতির পিতার খুনিদের বিচার দাবি করছে সে সময় ঐ ছাত্রীর এমন মন্তব্য জাতির পিতার প্রতি অসম্মান। একইসঙ্গে এ মন্তব্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ঐ ছাত্রী অভিযোগ স্বীকার করেছে।

প্রাথমিকভাবে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া কেন তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, এ মর্মে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সাত কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ঘটনার কারণ যাচাইয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট পেশ করলে আমরা চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আশাকরি সরকারও এ বিষয়ে কঠোর হবেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এবং তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম বলেন, আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আমি কী লিখেছি সেটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রয়োগ করতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত বহিষ্কারাদেশ। তদন্ত কমিটি ও প্রমাণ করতে পারেনি আমি ছাত্র-শৃঙ্খলার কোন ধারাটি ভঙ্গ করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবৈধ কাজের প্রতিবাদ এবং আন্দোলন যাতে না করি সেজন্য তারা আমাকে বহিষ্কার করতে চেয়েছিল। ততকালীন ভিসি আসকারী নিজেই এক সামাজিক মাধ্যমে বলেছে যে, তাকে উপরমহল থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বহিষ্কার আদেশের জন্য।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমার উপর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ দিয়েও চাপ প্রয়োগ করা হতো। তৎকালীন ছাত্রলীগের ইবি শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় আমার উপর অনেক চাপ প্রয়োগ করেছিল। আমার বিরুদ্ধে ভুয়া নিউজ করে শিবির ট্যাগ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা এগুলো প্রমাণ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে বর্তমান ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে তৎকালীন তথ্য ঘেঁটে দেখা প্রয়োজন , কারা আসলে প্রকৃত দোষী ছিল বা এহেন কার্যে বহিষ্কারের কোনো আইন আদৌও আছে কিনা! বিশেষ করে ছাত্র-জনতার ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের প্রতি যাবতীয় অন্যায়ের বিচার করা প্রশাসনের দায়িত্ব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রশাসক অধ্যাপক ড. নূরুন নাহার বলেন, এটা অনেক আগের ঘটনা। আমার এ সম্পর্কে ধারণা নেই। এর সাথে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট গুলো দেখতে হবে।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।